× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম

স্ত্রীকে মুছাব্বিরের শেষ কথা

‘এক কাপ কফি বানিয়ে দাও, নামাজ পড়ে বের হব’

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম

গতকাল ঢাকা মেডিকেলে মর্গের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। ছবি : সংগৃহীত

গতকাল ঢাকা মেডিকেলে মর্গের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার শিকার ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বলেছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হলে তার মতো আরও অনেক পরিবার সর্বস্ব হারাবে। তিনি বলেন, ‘আমার মতো আর কারও যেন এমন না হয়—এটাই চাই।’

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সুরাইয়া বেগম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে, এখনো ঘটছে এবং ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হলে অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

স্বামীর শেষ কথার স্মৃতিচারণা করে সুরাইয়া বেগম বলেন, ‘বুধবার সন্ধ্যায় সে বলেছিল—এক কাপ কফি বানিয়ে দাও, নামাজ পড়ে বের হব। সেটাই ছিল তার শেষ কথা।’

সুরাইয়া জানান, বাইরে গেলে মুছাব্বির খুব একটা ফোন করতেন না এবং কার সঙ্গে আছেন, তা-ও জানাতেন না। কারণ, তার মোবাইল ফোন নজরদারিতে ছিল।

কাউকে সন্দেহ করছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সুরাইয়া বেগম বলেন, তিনি নির্দিষ্ট করে কাউকে বলতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘আমি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই, সংসার সামলাতাম।’

রাজনীতির পাশাপাশি মুছাব্বির কী করতেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২০ বছর ধরে তিনি পানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা শহরে এই ব্যবসা আমরাই শুরু করি। তিনি ২০২০ সালে কাউন্সিলর ছিলেন। এখন দল যা বলবে, সেটাই করবেন—তিন দিন আগেই আমাকে জানিয়েছিলেন।’

স্বামীহারা এই নারী জানান, তাদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। ছোট ছেলে দশম শ্রেণিতে পড়ে, এক মেয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং বড় মেয়ে অনার্স তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাত ৮টার কিছু পরে কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউর হোটেল সুপারস্টারের পাশে আহসানউল্লাহ টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তেজগাঁও থানার ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন।

গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন দুজনকে উদ্ধার করে বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে মৃত ঘোষণা করেন।

মুছাব্বির জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তার কোনো সাংগঠনিক পদ না থাকলেও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে তাকে কারাবরণ করতে হয়।

মুছাব্বিরের পরিচিত মো. শাহিন জানান, দীর্ঘদিন ছাত্রদল ও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে তিনি কাউন্সিলর প্রার্থীও হয়েছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শরীয়তপুর সমিতির একটি অনুষ্ঠান শেষে স্টার কাবাবের গলি দিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন দুর্বৃত্ত মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।

Link copied!