পটুয়াখালীতে জামায়াতে ইসলামীর ইউনিয়ন সেক্রেটারিকে নির্মমভাবে মারধর করে গুরুতর আহত করা, অপহরণ এবং তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি মারার ঘটনাকে বর্বর ও ন্যক্কারজনক আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে দলটির মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নূরুন্নিসা সিদ্দীকার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় জামায়াতের একজন দায়িত্বশীল ইউনিয়ন সেক্রেটারিকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে অপহরণ করা হয়। একই সঙ্গে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, যিনি নিজেও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন জামায়াতের মহিলা বিভাগের দায়িত্বশীল, তার ওপর শারীরিক হামলা চালিয়ে পেটে লাথি মারা হয়। এই ঘটনা মানবতা ও সভ্যতার ইতিহাসে এক জঘন্য দৃষ্টান্ত।
জামায়াত মহিলা বিভাগ জানায়, একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর ওপর এ ধরনের পাশবিক আক্রমণ প্রমাণ করে, হামলাকারীরা রাজনৈতিক শিষ্টাচার তো দূরের কথা, ন্যূনতম মানবিক মূল্যবোধও বিসর্জন দিয়েছে। মাতৃত্বের সম্মান, নারীর মর্যাদা ও অনাগত শিশুর নিরাপত্তাকে উপেক্ষা করে সংঘটিত এই সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাজনীতির নামে সন্ত্রাস, ভয়ভীতি ও নারীদের ওপর হামলা গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হতে পারে না। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বিএনপি-সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে অপহৃত জামায়াত নেতার দ্রুত সন্ধান ও নিরাপদ মুক্তি, আহত দম্পতির যথাযথ চিকিৎসা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতির শেষাংশে দেশবাসী, বিশেষ করে নারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয় এই ধরনের নারকীয় সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। নীরবতা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদের পথ তৈরি করবে। ন্যায় ও মানবতার পক্ষে সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়।


