ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি ও কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েম বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে বিদায় নিয়েছেন। তার বিদায় নেওয়ার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি প্রশ্নই তুলছেন সবাই- এখন জামায়াত না এনসিপিতে যোগ দেবেন তিনি?
এ বিষয়ে ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যেহেতু তিনি (সাদিক কায়েম) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র পদপ্রার্থী, সেহেতু নিয়ম অনুযায়ী দলটিতে যোগ দিতে হবে। তাই তিনি ছাত্রশিবিরের দায়িত্ব থেকে বিদায় নিয়েছেন। খুব দ্রুত জামায়াতে আমিরের সঙ্গে দেখা করবেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেবেন।
এর আগে সোমবার (১৩ জুলাই) নিজের ফেসবুকে সাদিক কায়েম জানান, ছাত্রশিবিরে বছরে দুবার সাংগঠনিক সেটআপ হয়। ২০২৬ সালের সেটআপে তার দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং তিনি সংগঠন থেকে বিদায় নিয়েছেন।
যদিও এ বিষয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে সাদিক কায়েমের বিদায়ের কারণ বা পরবর্তী সাংগঠনিক দায়িত্ব সম্পর্কে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
সাদিক কায়েম বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি তিনি মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
সাদিক কায়েমের শিক্ষাজীবনের শুরু খাগড়াছড়িতে বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া আদর্শ মাদ্রাসায়। সেখান থেকে ২০১৪ সালে সাদিক কায়েম দাখিল এবং পরবর্তীতে বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসা থেকে ২০১৬ সালে আলিম পাস করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের (ঢাবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
প্রায় ২ মাস আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে সাদিক কায়েমের নাম ঘোষণা করা হয়। গত ১ মে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) কাউন্সিল হলে আয়োজিত থানা ও বিভাগীয় দায়িত্বশীল সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
এরপর ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ছাত্রশিবিরের পদে থেকে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে নির্বাচনের সুযোগ নেই।

