ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

মেসিকে ঘুম পাড়িয়ে দেব, হুংকার ইংলিশ কিংবদন্তির

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
লিওনেল মেসি। ছবি- সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াইকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। আগামী বুধবার (১৫ জুলাই) আটলান্টায় অনুষ্ঠিতব্য এই মহারণের আগে কথার লড়াইয়েও পিছিয়ে নেই দুই পক্ষ। ইংল্যান্ডের সাবেক মিডফিল্ডার জো কোল আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেছেন, লিওনেল মেসিকে থামিয়েই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করবে ইংল্যান্ড।

নেটফ্লিক্স স্পোর্টসের এক আলোচনায় গ্যারি লিনেকার, অ্যালান শিয়ারার ও মিকা রিচার্ডসের সঙ্গে সেমিফাইনাল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কোল বলেন, তাকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে হবে। আমরা তাকে ঘুম পাড়িয়ে দেব। শতভাগ।

কোলের এমন মন্তব্যে উপস্থিত অন্য বিশ্লেষকরা তাকে সতর্ক করেন। তাদের মতে, মেসি যদি ম্যাচে জাদুকরী পারফরম্যান্স দেখান, তাহলে এই বক্তব্যই পরে কোলের জন্য বিব্রতকর হতে পারে। তবে সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব না দিয়ে সাবেক চেলসি তারকা আরও দৃঢ়ভাবে বলেন, আমি এখনই বলছি, আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠব।

অন্যদিকে, সাবেক ডিফেন্ডার মিকা রিচার্ডস মনে করেন, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারানো মোটেও সহজ হবে না। তার ভাষায়, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা বড় ম্যাচে অত্যন্ত চতুর এবং কীভাবে জয় ছিনিয়ে আনতে হয়, তা ভালোভাবেই জানেন। তবে ইংল্যান্ডের গতি তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জো কোলের এই মন্তব্য অনেককেই বিস্মিত করেছে। কারণ অতীতে তিনি বহুবার লিওনেল মেসির প্রশংসা করেছেন এবং মেসি-ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বিতর্কে বরাবরই আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে এগিয়ে রেখেছেন। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এক আলোচনায় কোল বলেছিলেন, আমার মনে হয়, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো রাতে ভাবেন—ইশ, যদি আমি মেসির মতো ভালো হতে পারতাম। মেসিই একমাত্র খেলোয়াড়, যে সবকিছু অর্জন করেছে।

এদিকে, আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ নিয়েও মন্তব্য করেছেন ইংল্যান্ডের আরেক সাবেক তারকা গ্যারি নেভিল। তার মতে, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজ কখনো দুর্দান্ত, আবার কখনো অবিশ্বাস্য ভুল করেন। মজার ছলে তিনি এই জুটিকে ‘বিশ্বের সেরা-খারাপ সেন্টারব্যাক জুটি’ বলেও অভিহিত করেন।

সব মিলিয়ে, মাঠের লড়াই শুরুর আগেই দুই দলের সাবেক তারকাদের মন্তব্যে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। এখন দেখার বিষয়, কথার লড়াইয়ের জবাব মাঠেই দিতে পারেন কি না মেসি ও তার সতীর্থরা, নাকি ইংল্যান্ডই জায়গা করে নেয় বিশ্বকাপের ফাইনালে।