ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

‘২ কোটি রেডি রাখবেন’ হুমকির পরই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ৩৫ লাখ টাকা লুট

চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোড এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডটনেট (ডিডিএন)-এর কার্যালয়ে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও ৩৫ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে চাঁদা দাবির মাত্র দুই দিনের মাথায় চন্দনপুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা আতিকুর রহমান জানান, হামলার দুই দিন আগে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি ফোন করে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি পূরণ না হলে ব্যবসা পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

সোমবার দুপুরে কিরিচ, চাইনিজ কুড়াল ও ছুরিসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত একদল ব্যক্তি হঠাৎ কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে কর্মীদের অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলে, অন্যথায় হামলার হুমকি দেয়। এরপর অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রে এলোপাতাড়ি ভাঙচুর চালানো হয়।

আতিকুর রহমান আরও জানান, ওই দিন কর্মীদের বেতন দেওয়ার জন্য হিসাব বিভাগে ৩৫ লাখ টাকা রাখা ছিল। হামলাকারীরা ওই টাকা লুট করে নিয়ে যায়। কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এ পর্যন্ত ৩৪ জন হামলাকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে, তবে হামলার সময় সবার মুখে মাস্ক ছিল।

ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান এবং চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর হোসেন মামুন।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ৭ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের কলরেকর্ড ছড়িয়ে পড়ে। +৯৭১৫৬৮৬৩৮৩৮৫ নম্বর থেকে আসা ওই কলে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দেওয়া একজন ডিডিএনের মালিক আদিল বিন মামুনকে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার আলটিমেটাম দেন। অন্যথায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

একই কলরেকর্ডে ওই ব্যক্তি দাবি করেন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় তার নিয়ন্ত্রণে ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। তিনি ডিডিএন মালিককে দুই দিনের সময় বেঁধে দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না করলে পরিণতি ভোগ করতে হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডেভিড ইমন ওরফে মোবারক হোসেন ইমন বাকলিয়া এলাকার আলোচিত জোড়া খুন ও ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি। ছোট সাজ্জাদ কারাগারে যাওয়ার পর বড় সাজ্জাদের পক্ষে চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেভিড ইমন ও রাউজানের রায়হান।