ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

সিলেটে বাড়ছে সুরমা–কুশিয়ারার পানি, কাটছে না শঙ্কা

সিলেট ব্যুরো
প্রকাশিত: জুলাই ১৪, ২০২৬, ১২:৩৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত

দেশজুড়ে কয়েক দিন টানা ভারী বর্ষণ চলছে। এর প্রভাব এখনো সিলেটে অব্যাহত। বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে সুরমা ও কুশিয়ারার পানি তিনটি পয়েন্টে বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে।

এফএফডব্লিউসি জানিয়েছে, এই পানি বৃদ্ধি আরও তিন দিন অব্যাহত থাকবে।

তথ্য অনুযায়ী, আজ সোমবার সকাল ৯টায় কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে দেশের মধ্যে বিপদসীমা অতিক্রম করা স্টেশনগুলোর মধ্যে এটি সর্বোচ্চ। একই নদীর সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে, সুরমা নদীর ছাতক পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বর্তমানে সতর্কসীমায় রয়েছে সুরমা নদীর কানাইঘাট, সিলেট ও সুনামগঞ্জ স্টেশন। উজানে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে এসব স্থানেও অল্প সময়ের মধ্যে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের চারটি স্টেশনে তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে তিনটি স্টেশনই সিলেট বিভাগের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর। অপরটি নেত্রকোণার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পয়েন্ট।

নদীর পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগেও ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের লরেরগড়ে ১৫৭ মিলিমিটার, ছাতকে ১২৫ মিলিমিটার, মহেশখোলায় ৯৫ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জ সদর এলাকায় ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে, ভারতের মেঘালয়েও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মাওকিরওয়াতে ১১৫ মিলিমিটার, মাউসিনরামে ১১১ মিলিমিটার, আর. কে. এম. সোহরায় ১০৮ মিলিমিটার, শেল্লায় ৮০ মিলিমিটার, উইলিয়ামনগরে ৮০ মিলিমিটার এবং চেরাপুঞ্জিতে ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। মেঘালয়ের এসব পাহাড়ি এলাকা থেকেই সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর উজানের পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে সুরমা ও কুশিয়ারার পানি আরও বাড়তে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীতীরবর্তী এবং নিম্নাঞ্চলগুলোতে জলাবদ্ধতা ও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এফএফডব্লিউসির সোমবার সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১২৭টি পানি সমতল পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৮০টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, ৪৪টিতে কমেছে এবং দুটি স্টেশনে পানি অপরিবর্তিত রয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নদ-নদীর পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি ও উজানের বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভর করে পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।