ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

কক্সবাজারে পানি নামলেও কাটেনি দুর্ভোগ

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ১৩, ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

বন্যার পানি নামছে, কিন্তু কাটছে না কক্সবাজারের মানুষের দুর্ভোগ। বরং পানি সরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে উঠছে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের চিত্র। কাদায় চাপা পড়ে আছে মানুষের স্বপ্ন, ভেঙে পড়েছে হাজারো বসতঘর, নষ্ট হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ, ভেসে গেছে মাছের ঘের। কোথাও রান্নার হাঁড়ি কাদায় ডুবে আছে, কোথাও শিশুদের বই-খাতা কিংবা জীবনের শেষ সম্বলটুকুও নষ্ট হয়ে গেছে। টানা ছয় দিনের ভয়াবহ বন্যা শেষে জেলার লাখো মানুষ এখন নতুন করে জীবন গড়ার কঠিন সংগ্রামে নেমেছেন।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, জেলার ১০ উপজেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৯টি ইউনিয়ন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দি হয়েছেন আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ। পাহাড়ধস ও বন্যার পানিতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩০ জন। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে।

টানা ছয় দিনের অবিরাম বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং বাকখালী ও মাতামুহুরী নদীর উন্মত্ত স্রোতে রামু, ঈদগাঁও, কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, উখিয়া ও টেকনাফের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। বহু পরিবার রাতারাতি আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যেতে বাধ্য হয়। অনেকেই ঘরের ভেতরেই দিন কাটিয়েছেন বুকসমান পানিতে।

এখন পানি কমতে শুরু করলেও দুর্যোগের প্রকৃত ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। গ্রামের পর গ্রামজুড়ে কাদা আর ধ্বংসস্তূপ। অনেকের ঘর বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কোথাও মাটির ঘর ধসে গেছে, কোথাও টিনের ঘর ভেঙে পড়ে আছে। কৃষকের ধানের ক্ষেত, সবজির জমি, মাছের ঘের এবং গবাদিপশুর খাদ্য নষ্ট হয়ে যাওয়ায় হাজারো পরিবার চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় পড়েছে। দিনমজুর, জেলে, কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কাজ হারিয়ে পড়েছেন জীবিকার সংকটে।

স্থানীয় বাসিন্দা আজিম খানসহ অনেকে জানিয়েছেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। অনেক এলাকায় নলকূপ এখনো ব্যবহার অনুপযোগী। ফলে দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে ডায়রিয়া, পানিবাহিত রোগ ও চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শিশু খাদ্য, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবার সংকটও অনেক এলাকায় প্রকট। 

দুর্গত মানুষের অভিযোগ, জরুরি ত্রাণ মিললেও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা এখনো দৃশ্যমান নয়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প, শহরতলী, চকরিয়া, পেকুয়া, উখিয়া, রামু ও মহেশখালীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো স্বজন হারানোর বেদনা ভারী হয়ে আছে। পাহাড়ধস ও বন্যার পানিতে প্রাণ হারানো মানুষের পরিবারগুলো একদিকে শোক, অন্যদিকে জীবিকা হারানোর দ্বৈত সংকটে দিন কাটাচ্ছে।