বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার হলেই একজন সংসদ সদস্যের (এমপি) পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। তবে দল যদি প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে স্পিকারের কাছে সদস্যপদ বাতিলের আবেদন জানায়, সেক্ষেত্রে বিষয়টি আইনি ও সাংবিধানিকভাবে বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয়।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হলে তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না—এ প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার বিষয়।
সংবিধানে কী বলা আছে
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো সংসদ সদস্য নিজ রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হতে পারে। তবে দল থেকে বহিষ্কারকে সদস্যপদ বাতিলের কারণ হিসেবে এ অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়নি।
এ কারণে আইনজ্ঞদের মতে, শুধু দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার কারণে কোনো এমপির পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না।
কীভাবে এমপি পদ বাতিল হতে পারে
আইনজ্ঞরা বলছেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি প্রাথমিক সদস্যপদসহ একজন এমপিকে বহিষ্কার করে এবং তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের জন্য সংসদের স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানায়, তাহলে বিষয়টি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির জন্য বিবেচিত হতে পারে। প্রয়োজনে আদালতের ব্যাখ্যাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এর আগে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য লতিফ সিদ্দিকীর ক্ষেত্রে এমন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়েছিল।
অন্যদিকে, নবম জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি এইচ এম গোলাম রেজাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও স্পিকারের কাছে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তিনি সংসদ সদস্য পদে বহাল ছিলেন। ফলে অতীতের নজিরও বলছে, দলীয় বহিষ্কার মানেই এমপি পদ হারানো নয়।
জামায়াত কী বলছে
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ দল পর্যবেক্ষণ করছে।
পরে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। ইসি স্পিকারকে জানাবে। আমরা কাউকে দল থেকে বহিষ্কার করতে পারি, কিন্তু এমপি পদ থেকে বহিষ্কার করতে পারি না।
নির্বাচন কমিশনের অবস্থান
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসন নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাইনি। তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা যাবে না।
এখন কী হতে পারে
আইনজ্ঞদের মতে, গাজী নজরুল ইসলামের ক্ষেত্রে কয়েকটি সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল থাকতে পারেন। আবার বিষয়টি স্পিকারের সিদ্ধান্ত কিংবা আদালতের ব্যাখ্যার পর্যায়েও যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী দল থেকে বহিষ্কার হওয়া এবং সংসদ সদস্য পদ হারানো এক বিষয় নয়। এমপি পদ বাতিলের প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করে সংবিধানের বিধান, স্পিকারের ভূমিকা এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার ওপর।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন