ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, ফেসবুক পোস্টে যা বললেন সাদিক কায়েম

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
ছবি- সংগৃহীত

বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক উত্তরণের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ প্রত্যাশিত হলেও একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সংঘাতমুখী রাজনীতি বেছে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক জয়-পরাজয়ের চেয়েও রাজনৈতিক সংস্কৃতির মৌলিক পরিবর্তন এবং একটি সহনশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে সাদিক কায়েম অভিযোগ করেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে পরিকল্পিতভাবে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, মহিলা জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর ধারাবাহিক হামলা, হিজাব ইস্যুতে উসকানিমূলক তৎপরতা, প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের হুমকি ও হামলা এবং নির্বাচনী প্রচারণায় সহিংস আচরণের মাধ্যমে পুরো নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তোলা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ও নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়ার পরিবর্তে প্রশাসন একটি নির্দিষ্ট দলের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের একাংশের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা সংঘাতমুখী রাজনীতিকে পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সাদিক কায়েম জানান, এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে আজ ঢাকা–৮ আসনে ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর চাঁদাবাজদের দ্বারা বর্বর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এ ঘটনায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের অন্তত ১৩ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তার মতে, এ ধরনের হামলা শুধু কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক সংগঠনের ওপর আঘাত নয়, বরং এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথের ওপর সরাসরি হুমকি।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে যারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণকে সংঘাতময় করে তুলতে চায়, তারা রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ডাকসু ভিপি দেশের ছাত্রসমাজ ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি সহিংসতা, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি আগামী নির্বাচনে গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার মাধ্যমে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পক্ষে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।

তার মতে, এভাবেই একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।