জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ স্টাইলে পুলিশকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আপনাদের মনে রাখতে হবে, আপনারা যে পোশাক পরেন তা জনগণের আস্থার প্রতীক। জনগণের টাকায় আপনাদের বেতন হয়। একসময় ডিবি হারুন ও বেনজীর আহমেদের মতো লোকেরাও চাপ প্রয়োগ করেছিল, কিন্তু আজ তারা কোথাও নেই।
জুলাইয়ের আন্দোলনের কথা ভুলে যাবেন না গুলি ও গোলাবারুদ দিয়েও জনগণকে থামানো যায়নি। তাই গোলামি মানসিকতা পরিত্যাগ করুন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে যশোর শহরের দড়াটানা ভৈরব চত্বরে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, অবৈধ টাকার স্পর্শ থেকে দূরে থাকুন। আজ একদিন গোলামি করলে আগামী পাঁচ বছর রাজনৈতিক নেতাদের কাছে পোস্টিং ও বদলির জন্য দাসত্ব করতে হবে।
আপনাদের বিএনপির পুলিশ, জামায়াতের পুলিশ কিংবা এনসিপির পুলিশ হওয়ার দরকার নেই আপনারা বাংলাদেশের পুলিশ হন। আমরা আপনাদের পাশে থাকব, পাহারা দেব। পুরো বাংলাদেশ আপনাদের সহযোগিতা করবে। কলঙ্কমুক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন করুন।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ তারিখের পর দেশ কেমন হবে, তা অনেকটাই পুলিশের ভূমিকার ওপর নির্ভর করবে। তিনি জানান, ধানের শীষের অনেক নেতাকর্মীর ওপর নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। তারা কষ্টে রয়েছেন এবং গোপনে আমাদের এসব কথা জানান।
বর্তমানে হাইব্রিড বিএনপি এসে ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করছে। আপনারা তাদের কাছে যাবেন। তারা ধানের শীষের মিছিল নিয়ে কেন্দ্রে যাবেন ঠিকই, কিন্তু ভোট দেবেন ১১ দলীয় ঐক্যজোটে। আমার এই দাওয়াত তাদের কাছে পৌঁছে দেবেন বলে জানান তিনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এই নির্বাচন আধিপত্যবাদ থেকে মুক্তির নির্বাচন, রাষ্ট্রগঠনের নির্বাচন এবং ফ্যাসিবাদকে কবর দেওয়ার নির্বাচন। আগামী ১২ তারিখ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে এবং ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত পাহারা দিতে হবে। সেদিনই যশোরবাসী নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করবে।
স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা জমি দখল, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজিতে জড়িত, তারাই আজ আমাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, তারা ক্ষমতায় গেলে কী করবে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলির বিজয় নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সবাইকে নিয়ে একটি সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলব।
তিনি আরও বলেন, একটি পক্ষ মা-বোনদের হিজাব খুলে লাঞ্ছিত করছে এবং ভারতের দালালি করার চেষ্টা করছে। তারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতে লিপ্ত।
তারা বাংলাদেশের মানুষের প্রয়োজন, চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে না। তাদের নেতারা একদিন ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কথা বলেন, অন্যদিন তাদের কর্মীরা ‘না’এর পক্ষে প্রচারণা চালায় এটাই তাদের দ্বিমুখী রাজনীতি। অন্যদিকে আমরা ইনসাফের পক্ষে থেকে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি।
পথসভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান সমন্বয়কারী নুরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ১১ দলীয় জোটের শরিক দল জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ভিপি আব্দুল কাদের। পথসভা শেষে ভৈরব চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য নির্বাচনি মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।


