যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে হাইকমিশন প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও অর্ধনমিত করার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তবে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না হাইকমিশনের। প্রতিটি রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠছে হাইকমিশনের বিরুদ্ধে।
কোনো ধরনের নিবন্ধন আবেদন ছাড়াই দূতাবাসের কর্মকর্তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ও জাতীয় প্রবাসী দিবসে ক্রেস্ট ও সম্মাননা দেওয়ার বিতর্ক শেষ না হতেই চলতি মাসের ২১ ফেব্রুয়ারি আবারও সমালোচনার জন্ম দেয় হাইকমিশন। এদিন শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে হাইকমিশন দুই পর্বের কর্মসূচি গ্রহণ করে; প্রথম পর্বে ছিল জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিপত্তি ঘটে দ্বিতীয় পর্বে।
এসময় বিভিন্ন পেশাজীবী, শিক্ষক-ছাত্র, ব্যাংক কর্মকর্তাসহ মিশনের পছন্দের ব্যক্তিরা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ পেলেও উপেক্ষিত থাকেন কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভাষা আন্দোলনে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরও অবদান রয়েছে। সেখানে অন্যরা কথা বলার সুযোগ পেলেও তারা কেন অবহেলিত—এ প্রশ্ন তোলেন তারা। হাইকমিশনার কার এজেন্ডা বাস্তবায়নে কমিউনিটি নেতৃবৃন্দকে উপেক্ষা করছেন, সেই প্রশ্নও করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এদিকে হাইকমিশনের কর্মকর্তারা দিবসটি উপলক্ষে প্রেরিত মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পৃথক বাণী পাঠ করেন। এছাড়া ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পীরা ভাষা আন্দোলনভিত্তিক গান ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠান শেষে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন