× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১০:৫৪ এএম

মাহে রমজানে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ও প্রতিকার

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১০:৫৪ এএম

মাহে রমজানে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ও প্রতিকার। ছবি : সংগৃহীত

মাহে রমজানে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ও প্রতিকার। ছবি : সংগৃহীত

গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির তীব্র সমস্যার কারণে অনেকের পক্ষেই রোজা রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সুসংবাদ হলো, সঠিক পরিকল্পনা এবং নিয়ম মেনে চললে অনেকেই সুস্থভাবে রোজা রাখতে পারেন। তীব্র গ্যাস্ট্রিক সমস্যায় রোজা রাখার কৌশল

১. সেহরিতে ওষুধের সঠিক সময় : চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, যারা নিয়মিত গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ (যেমন—PPI জাতীয় ওষুধ) খান, তারা সেহরির অন্তত ৩০-৪০ মিনিট আগে ওষুধটি সেবন করুন। এতে সারাদিন অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

২. খাবার বিভাজন (ইফতার থেকে সেহরি) : ইফতারে পেট ভরে খেয়ে ফেলার অভ্যাসটিই সবচেয়ে ক্ষতিকর।

ক. ইফতারে করণীয়
ইফতারে অতিরিক্ত তেল ও মসলাযুক্ত খাবার অ্যাসিডিটির মূল কারণ।

ভাজাপোড়া বর্জন : পেঁয়াজু, বেগুনি, চপ বা ডুবো তেলে ভাজা খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

সহজপাচ্য খাবার : ইফতারের শুরুতে খেজুর বা তিল দিয়ে পানি পান করুন। এরপর ফলমূল বা ফলের রস খেতে পারেন।

অতিরিক্ত তেল-চর্বি বর্জন : কাবাব, হালিম বা ভারী খাবার ইফতারে না খেয়ে রাতের খাবারে রাখতে পারেন।

খ. সেহরিতে করণীয়
সেহরিতে এমন খাবার খেতে হবে, যা দীর্ঘ সময় শরীরকে শক্তি জোগাবে এবং গ্যাস্ট্রিক তৈরি করবে না।

পর্যাপ্ত পানি : ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।

ফাইবারযুক্ত খাবার : সবজি, ডাল এবং লাল চালের ভাত খেতে পারেন। এগুলো হজমে সহায়তা করে।

অতিরিক্ত মসলা বর্জন : সেহরিতে ভুনা মাংস বা অতিরিক্ত মসলাদার খাবার এড়িয়ে চলুন।

৩. চিনি ও ভাজাপোড়ায় লাগাম : ডুবো তেলে ভাজা খাবার এবং অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার সরাসরি অ্যাসিডিটি বাড়িয়ে দেয়। এগুলো বর্জন করাই রোজা রাখার মূল চাবিকাঠি।

৪. খাবারের ধরন:

         * খাবেন : ডাবের পানি, দই, কলা, ওটস, ইসবগুলের ভুসি (শরবতের সাথে)। এগুলো পাকস্থলী ঠান্ডা রাখে।

         * এড়িয়ে চলবেন : অতিরিক্ত ঝাল, মসলা, আচার, সাইট্রাস ফল (লেবু, কমলা - কারো কারো ক্ষেত্রে), ক্যাফেইন (চা/কফি)।

৫. মানসিক চাপ কমানো : রোজা নিয়ে দুশ্চিন্তা বা অতিরিক্ত টেনশনও কিন্তু গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়ায়।

৬. পানির ভারসাম্য ও পানীয় : একবারে বেশি পানি নয়: ইফতারে একবারে অনেক বেশি পানি পান করবেন না। এতে পাকস্থলীতে চাপ পড়ে। অল্প অল্প করে কিছুক্ষণ পর পর পানি পান করুন।

চিনিযুক্ত পানীয় বর্জন : কোল্ড ড্রিংকস, প্যাকেটজাত জুস বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত শরবত অ্যাসিডিটি বাড়ায়। ডাব বা সাধারণ লেবুর শরবত সবচেয়ে ভালো।

৭. জীবনযাত্রায় পরিবর্তন
তাড়াহুড়ো না করা : ইফতার বা সেহরি খুব দ্রুত খাবেন না। খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খান।

খাওয়ার পরপরই ঘুমানো নিষেধ : সেহরি খাওয়ার পরপরই ঘুমাতে যাবেন না। অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাচলা করুন বা সোজা হয়ে বসুন।

ক্যাফেইন বর্জন : চা বা কফি অ্যাসিডিটি বাড়ায়, তাই এগুলো এড়িয়ে চলাই ভালো।

৮. চিকিৎসকের পরামর্শ
যদি এসব নিয়ম মেনে চলার পরেও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা তীব্র হয়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে। বিশেষ করে যারা পুরোনো গ্যাস্ট্রিকের রোগী, তাদের নিয়মিত ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে।

রমজানে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার সবচেয়ে বড় সমাধান। সুস্থ দেহেই শুদ্ধ মনে ইবাদত করা সম্ভব। 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!