× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম

ইসলামে পাপের শ্রেণিবিন্যাস ও যে অপরাধের ক্ষমা নেই

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম

ইসলামে পাপের শ্রেণিবিন্যাস।  ছবি : সংগৃহীত

ইসলামে পাপের শ্রেণিবিন্যাস। ছবি : সংগৃহীত

মানুষের ভুলত্রুটি হওয়া স্বাভাবিক, তবে ইসলামে পাপ বা গুনাহকে তার ভয়াবহতা ও প্রভাব অনুযায়ী বিভিন্ন স্তরে ভাগ করা হয়েছে। পরকালীন মুক্তি নিশ্চিত করতে একজন মুমিনের জন্য গুনাহের ধরন এবং তা থেকে পরিত্রাণের উপায় জানা অত্যন্ত জরুরি। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী পাপকে প্রধানত দুটি বড় ভাগে ভাগ করা হয়।

১. সগিরা গুনাহ (ছোট পাপ)
দৈনন্দিন জীবনে অনিচ্ছাকৃত বা অসতর্কতাবশত যেসব ছোটখাটো ভুল হয়ে যায়, সেগুলোকে সগিরা গুনাহ বলা হয়। ওজু করা, নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়, জুম্মার নামাজ এবং নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা দয়াপরবশত এই গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেন। তবে কোনো ছোট গুনাহ বারবার করলে বা তা নিয়ে গর্ব করলে তা বড় পাপে পরিণত হতে পারে।

২. কবিরা গুনাহ (বড় পাপ)
যেসব পাপে আল্লাহ তায়ালা কঠোর শাস্তির ঘোষণা দিয়েছেন বা লানত দিয়েছেন, সেগুলোই কবিরা গুনাহ। যেমন—মিথ্যা বলা, চুরি করা, জিনা-ব্যভিচার, সুদ-ঘুষ খাওয়া, এতিমের সম্পদ দখল এবং মা-বাবার অবাধ্য হওয়া।

সমাধান: কবিরা গুনাহ কেবল ইবাদত দিয়ে মোচন হয় না; এর জন্য মহান আল্লাহর দরবারে খাঁটি মনে ‘তওবা’ (অনুশোচনা ও ভবিষ্যতে না করার প্রতিশ্রুতি) করা আবশ্যক।

কোন পাপ ক্ষমার অযোগ্য?
ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, আল্লাহর রহমত অত্যন্ত বিশাল। তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র রয়েছে যেখানে ক্ষমা পাওয়া প্রায় অসম্ভব যদি না নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হয়।

ক. শিরক (আল্লাহর সাথে শরিক করা)
ইসলামে সবচেয়ে বড় এবং জঘন্যতম অপরাধ হলো শিরক। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন:

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া অন্য সব গুনাহ যাকে ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করেন।” (সূরা নিসা: ৪৮)
তবে কেউ যদি মৃত্যুর আগে শিরক থেকে তওবা করে ইসলাম গ্রহণ করে, তবে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করতে পারেন। কিন্তু শিরক অবস্থায় মৃত্যু হলে তার জন্য জান্নাত চিরতরে হারাম।

খ. হক্কুল ইবাদ বা বান্দার হক
যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো মানুষের অধিকার খর্ব করে (যেমন- কারো টাকা আত্মসাৎ করা, কাউকে গালি দেওয়া বা শারীরিক আঘাত করা), তবে সেই পাপ আল্লাহ তায়ালা সরাসরি ক্ষমা করবেন না।

শর্ত: যতক্ষণ না পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত ওই ব্যক্তি অপরাধীকে ক্ষমা করে দিচ্ছে, ততক্ষণ আল্লাহর দরবারে এই পাপের বিচার স্থগিত থাকবে। পরকালে নেকির বিনিময়ে এই পাওনা শোধ করতে হবে।

তওবার মাধ্যমে ফিরে আসার সুযোগ
ইসলাম নিরাশার ধর্ম নয়। শিরক বা কবিরা গুনাহ যাই হোক না কেন, মৃত্যুর আগে (নিশ্বাস বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত) যদি কেউ লজ্জিত হয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে, তবে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তওবা কবুলের ৩টি শর্ত:
১. কৃত পাপের জন্য মনে মনে লজ্জিত হওয়া।
২. তাৎক্ষণিকভাবে সেই পাপ কাজ ছেড়ে দেওয়া।
৩. ভবিষ্যতে ওই পাপ আর কখনো না করার দৃঢ় সংকল্প করা।

পাপের ধরন প্রতিকার ও ক্ষমা
সগিরা গুনাহ:
নামাজ ও সাধারণ ইবাদতের মাধ্যমে মোচন হয়।

কবিরা গুনাহ: খাঁটি মনে ‘তওবা’ করা বাধ্যতামূলক।

শিরক: তওবা ছাড়া মৃত্যু হলে ক্ষমার অযোগ্য।

বান্দার হক, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে ক্ষমা বা পাওনা পরিশোধ করতে হবে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!