ইসলামি শরিয়তে অহংকারকে সব পাপের জননী বলা হয়। এটি এমন একটি মন্দ গুণ যা ইবলিসকে জান্নাত থেকে বিতাড়িত করেছিল এবং অভিশপ্ত করেছিল। বর্তমানে সামাজিক ও ব্যক্তিগত জীবনে মানুষের মাঝে আভিজাত্য, সম্পদ এবং পদের অহংকার ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। অথচ পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ইসলামে ‘অহংকার’ বা ‘কিবর’ একটি মারাত্মক আত্মিক ব্যাধি, যা মানুষের পরকালীন মুক্তি ও ইহকালীন শান্তি নষ্ট করে দেয়।
অহংকার কী?
রাসূলুল্লাহ (সা.) অহংকারের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন, ‘প্রকৃত অহংকার হলো সত্যকে অস্বীকার করা এবং মানুষকে তুচ্ছজ্ঞান করা’ (সহিহ মুসলিম) অর্থাৎ, নিজের ভুল জেনেও সত্য মেনে না নেওয়া এবং অন্যকে নিজের চেয়ে ছোট মনে করাই হলো অহংকার।
পবিত্র কোরআনের নির্দেশনা
অহংকারীদের আল্লাহ পছন্দ করেন না। সূরা লোকমানে ইরশাদ হয়েছে: ‘আর তুমি অহংকারবশে মানুষকে অবজ্ঞা করো না এবং পৃথিবীতে দম্ভভরে বিচরণ করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো দাম্ভিক ও আত্মঅহংকারীকে পছন্দ করেন না।’ (সূরা লোকমান: ১৮)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমি আমার নিদর্শনসমূহ থেকে ওই ব্যক্তিদের ফিরিয়ে রাখব, যারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার করে বেড়ায়।’ (সূরা আরাফ: ১৪৬)
পরকালীন শাস্তি : জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ
অহংকার মানুষকে কেবল দুনিয়ায় লাঞ্ছিত করে না, বরং জান্নাতের পথও রুদ্ধ করে দেয়। রাসূল (সা.) অত্যন্ত কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, ‘যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণও অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (সহিহ মুসলিম)
অহংকারের বিভিন্ন ধরন
সাধারণত মানুষ তিনভাবে অহংকারে লিপ্ত হয় :
জ্ঞানের অহংকার : নিজেকে অন্যের চেয়ে বেশি জ্ঞানী মনে করা।
ইবাদতের অহংকার : নিজেকে অনেক বড় মুত্তাকি বা পরহেজগার ভেবে অন্য পাপীদের ঘৃণা করা।
সম্পদ ও বংশের অহংকার : নিজের টাকা-পয়সা, ক্ষমতা বা উঁচু বংশ নিয়ে বড়াই করা।
অহংকার থেকে মুক্তির উপায়
ইসলামি স্কলাররা অহংকার থেকে বাঁচার জন্য কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন :
সৃষ্টির উৎস চিন্তা করা : মানুষ যে মাটি থেকে সৃষ্টি এবং একদিন মাটিতেই মিশে যাবে—এই চিন্তা বিনয় সৃষ্টি করে।
মৃত্যুর স্মরণ : মৃত্যু মানুষের সব দম্ভ ভেঙে চুরমার করে দেয়। নিয়মিত কবরের কথা স্মরণ করলে মনে নম্রতা আসে।
সালামের প্রসার : ছোট-বড় সবাইকে আগে সালাম দেওয়ার অভ্যাস করলে মনের অহংকার দূর হয়।
মানুষের সেবা : আর্তমানবতার সেবা এবং তুচ্ছ মানুষের সাথে মেলামেশা অন্তরকে পরিষ্কার করে।
একনজরে অহংকারের পরিণতি :
আল্লাহর ঘৃণা : অহংকারী ব্যক্তি আল্লাহর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়।
হাশরের ময়দানে লাঞ্ছনা : কিয়ামতের দিন অহংকারীদের ক্ষুদ্র পিপীলিকার ন্যায় লাঞ্ছিত অবস্থায় ওঠানো হবে।
দোয়ার অন্তরায় : দাম্ভিক ব্যক্তির দোয়া ও ইবাদত কবুল হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি হয়।
অহংকার কেবল মহান আল্লাহর চাদর। বান্দা হিসেবে মানুষের ভূষণ হওয়া উচিত বিনয় ও নম্রতা। কারণ, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিনয়ী হয়, আল্লাহ তাকে উচ্চ মর্যাদায় আসীন করেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন