ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বিশ্বকাপে মুস্তাফিজকে দেখতে চায় না আইসিসি

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১২, ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
মোস্তাফিজুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত

একটা সময় বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেটারদের মধ্যে যে হৃদ্যতা ছিল তা এখন রূপ নিয়েছে অদৃশ্য যুদ্ধে। কলকাতা নাইট রাইডার্স আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশ। বিকল্প ভেন্যু হিসেবে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের জন্য আইসিসিকে অনুরোধ জানিয়ে দুই দফা চিঠিও দিয়েছে বিসিবি। এবার মুস্তাফিজুর রহমানকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত না করাসহ বাংলাদেশকে ৩টি সুপারিশ দিয়েছে আইসিসি।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে আইসিসির পাঠানো চিঠির বরাত দিয়ে এ কথা জানান যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, আইসিসির সিকিউরিটি টিম তাদের চিঠিতে তিনটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছে, যা ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। চিঠিতে বলা হয়েছে, তিনটি জিনিস হলে বাংলাদেশ টিমের নিরাপত্তা আশঙ্কা বাড়বে। প্রথমত, বাংলাদেশ দলে যদি মুস্তাফিজুর রহমানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের সমর্থকরা যদি জাতীয় জার্সি পরে ঘোরাফেরা করেন। আর তৃতীয়ত, বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, তত দলের নিরাপত্তাঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, ‘আইসিসি যদি আশা করে আমরা আমাদের শ্রেষ্ঠ বোলারকে বাদ দিয়ে দল গড়ব, সমর্থকরা জার্সি পরতে পারবে না আর খেলার জন্য নির্বাচন পিছিয়ে দেব, তবে এর চেয়ে অবাস্তব প্রত্যাশা আর হতে পারে না।’

আসিফ নজরুল বলেন, ভারতে এখন যে উগ্র সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ-বিদ্বেষী পরিবেশ বিরাজ করছে, বিশেষ করে গত ১৬ মাস ধরে চলা অব্যাহত ক্যাম্পেইনের প্রেক্ষিতে সেখানে ক্রিকেট খেলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মুস্তাফিজের ইস্যু এবং আইসিসির এই চিঠির মাধ্যমে এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, ‘যেখানে আমাদের দলের একটা প্লেয়ারের খেলার পরিবেশ নাই, এই উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে মাথা নত করে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট বোর্ড—ন্যাশনাল একটা অথরিটি, তারা যখন বলে তাকে এখানে খেলানো না হোক, এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী আছে আইসিসির সামনে, বুঝলাম না। এটা তো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে আমাদের ওখানে খেলার পরিবেশ নাই। ভারতের কোনো জায়গাতে খেলার পরিবেশ নাই।’