আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের বাজারে ঝড় তুলেছে পাকিস্তান। তবে পর্দার আড়ালে থাকা নতুন তথ্য বলছে, পাকিস্তানের এই ‘অনড় অবস্থান’ কেবল ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
সূত্র মতে, বাংলাদেশের নির্বাচনের পরে ম্যাচ শুরুর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে ‘ইউ-টার্ন’ নিতে পারে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
পিসিবি দাবি করেছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে তারা ভারতের বিপক্ষে খেলবে না।
এর আগে, নিরাপত্তাহীনতার কারণে ভারতের মাটিতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় আইসিসি বাংলাদেশের বদলে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এমতাবস্থায় পাকিস্তানের এই তথাকথিত ‘সংহতি’ সন্দেহজনক বলছে ভারতীয় মিডিয়া।
পিসিবির এমন সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। আইসিসি সূত্রে জানা গেছে, ভারতের বিপক্ষে না খেললে পাকিস্তানের বার্ষিক ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৪১০ কোটি টাকা) বরাদ্দ সম্পূর্ণ আটকে দেওয়া হতে পারে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা যায়, ভারত-পাক ম্যাচ না হলে তারা পিসিবিকে আদালতে টেনে নিয়ে যাবে টুর্নামেন্টের প্রধান সম্প্রচারকারী সংস্থা জিওস্টার। বিজ্ঞাপনের কোটি কোটি টাকার লোকসান পিসিবিকেও দিতে হতে পারে।
এনডিটিভি আরও বলছে, বোর্ড চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি ক্রিকেটীয় স্পিরিটের চেয়ে রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতিকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।
সূত্র-মতে, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের পর পাকিস্তান তাদের বয়কট তুলে নেওয়ার ঘোষণাও দিতে পারে। এতে তারা একদিকে বাংলাদেশের জনগণের কাছে ‘বন্ধু’ সাজার কৃতিত্ব পাবে, আবার আইসিসির কোষাগাড় থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্বও পাবে।
মজার ব্যাপার হলো, গত ২৪ জানুয়ারির পর পাকিস্তান বিশ্বকাপ বয়কটের হুঙ্কার দিলেও পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা গত ২ ফেব্রুয়ারিই শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার বিমান টিকেট কনফার্ম করে রেখেছেন।
এমনকি তারা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শ্রীলঙ্কায় পৌঁছে অনুশীলনও শুরু কবে থেকে করবে তারও রুটিন তৈরি করা ছিল বলেও নিশ্চিত করে পিটিআই।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন