নারী এশিয়ান কাপ টুর্নামেন্ট শেষ করে দেশে ফেরার আগমুহূর্তে নাটকীয়ভাবে ইরানি নারী ফুটবল দলের আরও দুই সদস্য অস্ট্রেলিয়ার কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন। এর ফলে দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া দলের মোট সদস্য সংখ্যা এখন সাতজনে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাতে সিডনি বিমানবন্দর থেকে ইরানের উদ্দেশ্যে বিমান ছাড়ার ঠিক আগে এই দুই সদস্য দলে না ফেরার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালেই দলের অধিনায়ক জাহরা গানবারিসহ পাঁচজন খেলোয়াড়কে আনুষ্ঠানিকভাবে মানবিক ভিসা দেয় অস্ট্রেলিয়া সরকার। টুর্নামেন্টে নিজেদের শেষ ম্যাচে ফিলিপাইনের কাছে ২-০ গোলে হারার পর থেকেই দলের ভেতরে এই অস্থিরতা শুরু হয়।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১০:৪৩ মিনিটে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ইরানি দলের বাকি সদস্যদের কুয়ালালামপুরের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানের আকাশপথ বন্ধ থাকায় কুয়ালালামপুর থেকে তারা কীভাবে দেশে ফিরবেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
বিমানবন্দরের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খেলোয়াড়দের সাধারণ টার্মিনাল দিয়ে না নিয়ে বিমানের পেছন দিক দিয়ে কড়া পুলিশি পাহারায় বাসে করে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষায় থাকা প্রবাসী ইরানি সমর্থকরা টর্চের আলো জ্বেলে খেলোয়াড়দের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। অনেক সমর্থককে সেখানে কান্নায় ভেঙে পড়তেও দেখা যায়।
ফারাক নামের এক সমর্থক জানান, তিনি এক খেলোয়াড়ের মায়ের একটি অডিও রেকর্ড নিয়ে এসেছিলেন, যেখানে মা তার মেয়েকে ইরানে না ফিরে অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন।
ফারাক আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, আমি নিশ্চিত মেয়েটি যদি এই রেকর্ডিং শুনতে পেত, তবে সে অবশ্যই থেকে যেত। এখন মেয়েগুলোর ভাগ্যে কী ঘটবে তা নিয়ে আমি খুব চিন্তিত।
খেলোয়াড়দের এই বিদ্রোহের সূত্রপাত হয় টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকে।
ইরানে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বহির্বিশ্বের সাথে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপকে দেশে ‘দেশদ্রোহিতা’ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ফলে দেশে ফিরলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে পারেন—এমন আশঙ্কায় খেলোয়াড়রা আশ্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন বলেও জানা যায়।


