দেশের ক্রিকেটের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র—সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা। অথচ সময়ের আবর্তে এখন তাদের পরিচয় কেবল ক্রিকেটার নয়, বরং ‘রাজনীতিবিদ’। আর এই পরিচয়ই এখন তাদের ক্যারিয়ারের সামনে বড় দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিসিবির সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ কিংবা আমিনুল ইসলাম বুলবুলরা যখন এই দুই কিংবদন্তিকে ফেরাতে সরকারের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছিলেন, সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটছে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অ্যাডহক কমিটি।
বর্তমান সময়ে তামিমের নেতৃত্বাধীন বোর্ড জানায়, সাকিব-মাশরাফিকে কোনো বিশেষ সুবিধা দেবে না বোর্ড, বরং তাদের ফিরতে হবে আইনি লড়াই লড়েই।
বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম বাবু বর্তমান বোর্ডের কঠোর অবস্থানের কথা জানান দিয়ে বলেছেন, সাকিব ও মাশরাফি এখন রাজনীতিবিদ। মাঠের ক্রিকেটারের চেয়ে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় এখন বড়।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের অংশ হিসেবে তারা যে দায়বদ্ধতা তৈরি করেছেন, তা থেকে বোর্ড তাদের মুক্তি দিতে পারে না।
এর আগের বোর্ড কর্তারা সাকিবের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা ও শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির মামলার বিষয়ে নমনীয় ছিল এবং আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান কমিটি সেই পথে হাঁটতে নারাজ।
রফিকুল ইসলাম বাবু জানান, বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক যদি রাজনীতিতে এসে মামলা মোকাবিলা করতে পারেন, তবে সাকিব-মাশরাফিদের কেন বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে? তারা ক্লিন হয়ে ফিরলে আমরা স্বাগত জানাব, কিন্তু বোর্ড কোনো মধ্যস্থতা করবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাবেক এক বিসিবি পরিচালক জানান, বর্তমান বোর্ড চাচ্ছেন না সাকিব-মাশরাফি ফিরে আসুক।
বিগত বোর্ড যেখানে সাকিবকে ‘দেশের সম্পদ’ হিসেবে গণ্য করে বিশেষ বিবেচনার কথা বলেছিল, সেখানে বর্তমান বোর্ড কেন তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে—এ নিয়ে ক্রিকেটপাড়ায় উঠছে নানা প্রশ্ন।
তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন এই অ্যাডহক কমিটির মনে কি কোনো লুকানো ভয় কাজ করছে? সাকিব-মাশরাফি যদি মাঠ থেকে সরাসরি ক্রিকেট বোর্ডে চলে আসেন, তবে বর্তমান নেতৃত্বের ভিত নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে কি না, সেই প্রশ্নও এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই।
উল্লেখ্য, ২০২৪-এর জুলাই অভ্যুত্থানের পর সাবেক সংসদ সদস্য সাকিবের বিরুদ্ধে আদাবর থানায় পোশাককর্মী হত্যা মামলা এবং বিএসইসি কর্তৃক ২৫৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
অন্যদিকে, নড়াইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে একাধিক মামলায় অভিযুক্ত মাশরাফি বিন মোর্ত্তজা।

