ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

আসন্ন আইপিএলে ভিন্ন কৌশলে ৫ বারের চ্যাম্পিয়নরা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২০, ২০২৫, ০৮:২২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

আইপিএলে চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে) বরাবরই পরিচিত ছিল অভিজ্ঞ ও বয়সী খেলোয়াড়দের ওপর আস্থা রাখার জন্য। যখন অন্য দলগুলো নতুন প্রজন্মের দিকে ঝুঁকছিল, তখন সিএসকে ‘পুরোনোদের দল’ হিসেবেই এগিয়ে যাচ্ছিল। এই কৌশলেই তারা ২০১৮ ও ২০২৩ সালে শিরোপা জিতেছে, ২০১৯ ও ২০২১ সালে খেলেছে ফাইনাল।

তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই কৌশল নিয়েই সমালোচনার মুখে পড়েছিল দলটি। অনেকেই ব্যঙ্গ করে সিএসকেকে বলেছিল ‘ড্যাডস আর্মি’। কিন্তু সময় বদলেছে, বদলেছে চেন্নাইয়ের ভাবনাও।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আইপিএল ২০২৬ নিলামে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটতে দেখা গেছে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের। অভিজ্ঞদের বদলে তারা বড় বিনিয়োগ করেছে তরুণ খেলোয়াড়দের ওপর। ৪৩ কোটি ৫০ লাখ রুপির নিলাম বাজেট থেকে কার্তিক শর্মা ও প্রশান্ত বীর—এই দুই তরুণের পেছনেই খরচ হয়েছে ১৪ কোটি ২০ লাখ রুপি করে।

এর আগে যেখানে তরুণদের সুযোগ না দেওয়ার অভিযোগ উঠত, সেখানে এবার তরুণদের ওপর এত বড় বাজি ধরায় আবারও প্রশ্ন উঠেছে—মাঝের ব্যাটিং অর্ডারে অভিজ্ঞতার অভাব কি সিএসকেকে বিপদে ফেলবে?

সিএসকের এই পরিবর্তন হঠাৎ নয়। নিলামের শুরুতে তারা ক্যামেরন গ্রিনকে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল নির্দিষ্ট বাজেটের মধ্যে। সেটা সম্ভব না হওয়ায় আগে থেকেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্তিক শর্মা ও প্রশান্ত বীরকে দলে নেয় তারা।

১৯ বছর বয়সী কার্তিক শর্মা একজন আক্রমণাত্মক উইকেটকিপার-ব্যাটার, যিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে ২০ বছর বয়সী প্রশান্ত বীর বাঁহাতি স্পিন অলরাউন্ডার, যাকে ভবিষ্যতে রবীন্দ্র জাদেজার বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সিএসকের কোচ স্টিফেন ফ্লেমিং বলেন, আধুনিক ক্রিকেটের সঙ্গে তাল মেলাতে তারা কিছুটা দেরি করেছে। তবে সাম্প্রতিক নিলাম ও আগের মৌসুমে ডিওয়াল্ড ব্রেভিস, উর্বিল প্যাটেল ও আয়ুষ মাটরে দলে নেওয়ার মাধ্যমে স্পষ্ট—এখন তারা তরুণ ও আগ্রাসী ক্রিকেটেই আস্থা রাখছে।

পরবর্তী মেগা নিলাম হবে ২০২৭ সালের পর। সমালোচকদের মতে, এত অল্প অভিজ্ঞ দুই খেলোয়াড়ের পেছনে এত টাকা খরচ করে সিএসকে ঝুঁকি নিয়েছে। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজির দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন।

কার্তিক ও প্রশান্তের বয়স কম, দক্ষতা বেশি। সঙ্গে আছেন রুতুরাজ গায়কোয়াড়, নূর আহমেদ, আয়ুষ মাটরে, ডিওয়াল্ড ব্রেভিস ও সঞ্জু স্যামসনের মতো তরুণ-অভিজ্ঞদের মিশ্রণ। সবাইকে ধরে রাখা সম্ভব না হলেও ভবিষ্যতের জন্য শক্ত একটা কোর গড়ে তুলেছে সিএসকে।

তবে কাগজে কলমে সম্ভাবনা থাকলেও আইপিএলের চাপ সামলানো সহজ নয়। বড় অঙ্কের দাম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চাপ এবং দলের প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে তরুণদের জন্য চ্যালেঞ্জ কম নয়।

এর আগে সামীর রিজভির মতো খেলোয়াড়কে নিয়ে বড় আলোচনা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেয় সিএসকে। ফলে এই নতুন কৌশল সফল না হলে সমস্যায় পড়তে পারে দলটি।