২০২৫ সাল ক্রিকেট মাঠে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের পাশাপাশি অনেক তারকা ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত জীবনে বয়ে এনেছে কঠিন সময়। বিয়ে ভাঙন, সম্পর্কের ইতি ও বিয়ে বাতিল—এ ধরনের ঘটনাগুলো বছরজুড়ে ক্রিকেটভক্তদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
তারকাখ্যাতির চাপ, ব্যস্ত সূচি আর সারাক্ষণ জনদৃষ্টিতে থাকার বাস্তবতা যে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কতটা প্রভাবিত করে, এসব ঘটনাই তার প্রমাণ।
চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক ২০২৫ সালে শেষ হয়ে যাওয়া কয়েকজন ক্রিকেট তারকার সম্পর্কের গল্প—
১২ বছরের সংসারের ইতি: জেপি ডুমিনি ও সু ইরাসমাস
সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার জেপি ডুমিনি ও তার স্ত্রী সু ইরাসমাস ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আলাদা হওয়ার ঘোষণা দেন। ২০১১ সালে বিয়ে করা এই দম্পতির দুই কন্যা রয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে তারা জানান, বিচ্ছেদের পরও সন্তানদের লালন-পালনে দুজন একসঙ্গেই দায়িত্ব পালন করবেন। বিচ্ছেদের কারণ প্রকাশ না করা হলেও পরে সু ইরাসমাস নতুন সঙ্গীর সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে ছবি শেয়ার করেন।
আলোচিত বিচ্ছেদ: যুজবেন্দ্র চাহাল ও ধনশ্রী ভার্মা
ভারতীয় লেগ স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহাল ও কোরিওগ্রাফার ধনশ্রী ভার্মার বিবাহবিচ্ছেদ মার্চ মাসে মুম্বাইয়ের আদালতে চূড়ান্ত হয়। ২০২০ সালে বিয়ে করা এই দম্পতির বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে ‘অসামঞ্জস্যের’ কথা বলা হয়।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, বাসস্থান ও জীবনযাপন নিয়ে মতপার্থক্য থেকেই সম্পর্কের অবনতি ঘটে। আইপিএলের ব্যস্ত সূচির কারণে আদালত দ্রুত এই মামলার নিষ্পত্তি করে।
মেগান শুট ও জেস হোলিওকের পথচলা আলাদা
অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেট দলের তারকা মেগান শুট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তিনি ও তার সঙ্গী জেস হোলিওকে আলাদা হয়েছেন। ২০১৯ সালে বিয়ে করা এই দম্পতির একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
শুট বলেন, দাম্পত্য শেষ হলেও সন্তানের ভবিষ্যৎ ও মানসিক সুস্থতার বিষয়টি দুজনই গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন।
স্মৃতি মান্ধানার বিয়ে বাতিল
ভারতীয় ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা ও সুরকার পলাশ মুচ্ছলের নির্ধারিত বিয়ে শেষ পর্যন্ত আর হয়নি। পারিবারিক অসুস্থতা ও শারীরিক জটিলতার কারণে প্রথমে বিয়ে স্থগিত হয়।
পরে ডিসেম্বরের শুরুতে উভয় পক্ষই বিয়ে বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করে। মান্ধানা জানান, তিনি এখন পুরোপুরি ক্রিকেটেই মনোযোগ দিতে চান।
ইমাদ ওয়াসিম ও সানিয়া আশফাকের বিতর্ক
পাকিস্তানের অলরাউন্ডার ইমাদ ওয়াসিম বছরের শেষদিকে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন। তবে পরদিনই তার স্ত্রী সানিয়া আশফাক ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ও মানসিক কষ্টের অভিযোগ তোলেন।
বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি। উভয় পক্ষের বিপরীত বক্তব্যে এই বিচ্ছেদ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।

