একটি সেঞ্চুরির জন্য দীর্ঘদিনের হাহাকার ছিল জো রুটের।অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কখনো তিন অঙ্কের ম্যাজিক্যাল ফিগারের দেখা পাননি ইংল্যান্ডের এই তারকা ব্যাটার, সেখানে এবারের অ্যাশেজে করলেন দুটি সেঞ্চুরি। সেই সঙ্গে টেস্ট ইতিহাসে জায়গা করে নিলেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি রিকি পন্টিংয়ের পাশে।
অ্যাশেজ সিরিজের সিডনি টেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে শতরান পূর্ণ করেন রুট। প্রথম দিন ৭২ রানে অপরাজিত থাকা এই ব্যাটার সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে দারুণ ব্যাটিংয়ে ১৪৬ বলে তিন অঙ্কে পৌঁছান।
এটি রুটের টেস্ট ক্যারিয়ারের ৪১তম সেঞ্চুরি। টেস্টে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকায় তিনি স্পর্শ করলেন রিকি পন্টিংকে। পন্টিং তার ক্যারিয়ারে ২৮৭ ইনিংসে ৪১টি সেঞ্চুরি করেছিলেন। রুট সেই মাইলফলক ছুঁলেন ২৯৭ ইনিংসে।
ইংল্যান্ডের ইতিহাসের সফলতম ব্যাটারের সামনে এখন কেবল দুই কিংবদন্তি—দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিস (৪৫ সেঞ্চুরি) এবং সবার ওপরে থাকা ভারতের শচীন টেন্ডুলকার। টেন্ডুলকার টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ করেছেন ৫১টি সেঞ্চুরি নিয়ে।
একসময় টেন্ডুলকারের রান ও সেঞ্চুরি রেকর্ডকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হলেও রুট এখন সেই উচ্চতায় পৌঁছানোর পথে এগোচ্ছেন। টেন্ডুলকারকে ছুঁতে রুটের প্রয়োজন আরও ১০টি টেস্ট সেঞ্চুরি। ভারতীয় কিংবদন্তির ক্যারিয়ার রান ১৫ হাজার ৯২১। সিডনি টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ১৬০ রানে আউট হওয়া রুটের ক্যারিয়ার রান এখন ১৩ হাজার ৯৩৭; প্রায় দুই হাজার রান পিছিয়ে আছেন তিনি।
দিন ছয়েক আগে ৩৫ বছরে পা রাখা রুট যেভাবে পারফর্ম করছেন এবং ইংল্যান্ড যে পরিমাণ টেস্ট খেলে, তাতে এই রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা প্রবল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অথচ অস্ট্রেলিয়ায় সেঞ্চুরি না করতে পারা ছিল রুটের সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা। এবারের অ্যাশেজের আগে তিনবার অস্ট্রেলিয়া সফরে ১৪ টেস্ট খেলেও কোনো সেঞ্চুরি করতে পারেননি তিনি। এ নিয়ে কম আলোচনা-সমালোচনা হয়নি।
এবার সেই খরা কাটালেন রুট। পার্থে সিরিজের প্রথম টেস্টে শূন্য ও ৮ রানে ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় টেস্টে ব্রিসবেনে গোলাপি বলের দিন-রাতের ম্যাচে খেলেন ১৩৮ রানের অপরাজিত ইনিংস, যা ছিল তার ৪০তম টেস্ট সেঞ্চুরি। এরপর পাঁচ ইনিংসে ব্যর্থতার পর সিডনি টেস্টে উপহার দিলেন ক্যারিয়ারের ৪১তম শতক।
টেস্টখেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে যেসব দেশে রুট খেলেছেন, কেবল বাংলাদেশে এখনও সেঞ্চুরি নেই তার। যদিও সেখানে খেলেছেন মাত্র দুটি টেস্ট।

