ক্রিকেট ইতিহাসে আজকের দিনটি নানা স্মরণীয় ঘটনা, রেকর্ড ও নাটকীয় ম্যাচে ভরপুর। এই দিনে জন্ম নিয়েছেন ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার কপিল দেব, আবার শেষ টেস্টে জয় এনে দিয়ে বিদায় নিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার।
ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় ০৫ জানুয়ারি দিনটি এক বিচিত্র ও ঘটনাবহুল অধ্যায়। ক্রিকেটের মাঠে এই দিনটি অনেক স্মরণীয় মুহূর্তের জন্য ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছে।
এক নজরে দেখে নেওয়া যাক আজকের দিনে ক্রিকেট ইতিহাসে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো।
কপিল দেবের জন্মদিন
১৯৫৯ সালের এই দিনে জন্ম নেন ভারতের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার কাপিল দেব। তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার, যিনি টেস্ট ক্রিকেটে ৪ হাজারের বেশি রান ও ৪০০ উইকেট নেওয়ার অনন্য কীর্তি গড়েছেন।
১৯৮৩ সালে তার নেতৃত্বেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে ভারত। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট হাতে এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বল হাতে তার পারফরম্যান্স আজও কিংবদন্তি হয়ে আছে।
বিতর্কিত ২০০৮ সালের সিডনি টেস্ট
২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার টানা ১৬তম টেস্ট জয়ের রেকর্ড তৈরি হলেও ম্যাচটি আলোচনায় আসে মূলত হরভজন সিং ও অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের বর্ণবাদ বিতর্ক এবং একাধিক বিতর্কিত আম্পায়ারিং সিদ্ধান্তের কারণে।
ভারতীয় দলের প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত হরভজনের শাস্তি কমাতে বাধ্য হয় আইসিসি।
স্টিভ ওয়াহর বিদায় ও শচীনের ডাবল সেঞ্চুরি
২০০৪ সালে সিডনি টেস্ট ছিল অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক স্টিভ ওয়াহর শেষ টেস্ট। তবে ম্যাচের আলো কেড়ে নেন শচীন টেন্ডৃলকার, যিনি করেন ২৪১ রান—তখন পর্যন্ত এটাই তার সর্বোচ্চ। ভিভিএস লক্ষ্মণের সঙ্গে তার ৩৫৩ রানের জুটি আজও স্মরণীয়।
ডেভিড ওয়ার্নারের রূপকথার শেষ অধ্যায়
২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিডনি টেস্টে অপরাজিত ৫৭ রান করে দলকে জিতিয়ে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানান ডেভিড ওয়ার্নার। এটি ছিল তার শেষ টেস্ট।
এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানকে আরও একবার সিরিজ হোয়াইটওয়াশ করে অস্ট্রেলিয়া।
ঐতিহাসিক ও নাটকীয় ম্যাচগুলো
১৯৯৪ সালে সিডনি টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে মাত্র ৫ রানে হারে অস্ট্রেলিয়া।
২০১০ সালে প্রথম ইনিংসে ২০০ রানের বেশি পিছিয়ে থেকেও পাকিস্তানকে হারায় অস্ট্রেলিয়া।
১৯৩০ সালে ডন ব্র্যাডম্যান প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে করেন ঐতিহাসিক ৪৫২ রান।
১৯৮৪ সালে গ্রেগ চ্যাপেল, ডেনিস লিলি ও রড মার্শ—এই তিন কিংবদন্তির টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ দিন ছিল আজই।
আজকের দিনটি ক্রিকেট ইতিহাসে একাধিক স্মরণীয় ঘটনার সাক্ষী। ২২ গজে ব্যাট ও বল হাতে সাফল্য, রেকর্ড এবং অবিশ্বাস্য মুহূর্তগুলো ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য আজও অনুপ্রেরণার উৎস।



