ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

মারা গেছেন বিসিসিআইর সাবেক সভাপতি বিন্দ্রা

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১০:২৯ এএম
আই.এস. বিন্দ্রা। ছবি : সংগৃহীত

বিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আই.এস. বিন্দ্রা মারা গেছেন। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিসিসিআই সভাপতির দায়িত্ব পালন করলেও পাঞ্জাব ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান হিসেবে বিন্দ্রার একাধিপত্য ছিল দীর্ঘ ৩৬ বছর- ১৯৭৮ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত। এরপরই তিনি ক্রিকেট প্রশাসন থেকে অবসর নেন। 

রোববার (২৫ জানুয়ারি) ৮৪ বছর বয়সে নয়াদিল্লিতে মারা গেছেন তিনি।

মোহালির পিসিএ স্টেডিয়ামকে বিন্দ্রা বিশ্ব মানচিত্রে ঠাঁই করে দিয়েছিলেন, পরবর্তীতে যার নামকরণ তার নামেই হয়। সেখানে ২০১১ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মতো মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচ আয়োজিত হয়েছে, যেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ভারত পাকিস্তানকে পরাজিত করেছিল।

১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপ ভারতে আয়োজনের ক্ষেত্রে বিন্দ্রা ও বিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এন.কে.পি. সালভে ও জগমোহন ডালমিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এটিই ছিল প্রথমবার ইংল্যান্ডের বাইরে বিশ্বকাপ আয়োজনের ঘটনা। পশ্চিমা দেশগুলোর যাতে একচেটিয়া আধিপত্য শিথিল হয় এবং ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার নেতৃত্বাধীন এশীয় দেশগুলো একত্র হয়ে উপমহাদেশে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজন নিশ্চিত করতে পারে, সেই চেষ্টা ছিল বিন্দ্রার।

ভারতের প্রাক্তন টিম ম্যানেজার ও বিসিসিআইর বলিষ্ঠ কর্মকর্তা অমৃত মাথুর জানিয়েছেন, ১৯৮৬ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় যখন অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল, তখন বিন্দ্রাই পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরশাসক জেনারেল জিয়া-উল-হককে অচলাবস্থা কাটানোর জন্য ভারত সফরের পরামর্শ দিয়েছিলেন।

যদিও তারা বেশকিছু বিষয়ে একমত হতে পারতেন না, তবুও বিন্দ্রা ও ডালমিয়া আবারও নিশ্চিত করেছিলেন যে, ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ ভারত, পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে আয়োজন করবে। বিন্দ্রা ছিলেন একজন কূটনীতিবিদ ও আমলা, যিনি বিসিসিআই এবং পরবর্তীতে আইসিসিতে (যেখানে তিনি শরদ পাওয়ারের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন) সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজের বিশাল নেটওয়ার্ককে কাজে লাগাতেন।

উভয়ের মধ্যে প্রবল মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, ২০১৫ সালে ডালমিয়ার প্রয়াণে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে গিয়ে বিন্দ্রা লিখেছিলেন : সারা বিশ্বের ক্রিকেট ভক্তদের মনে রাখা দরকার যে, আধুনিক খেলা এবং বর্তমানের প্রশাসন পদ্ধতি একেবারেই আলাদা হতো যদি ‘জগ্গু’ না থাকতেন।

বিসিসিআই থেকে এক্স-এ দেওয়া একটি পোস্টে বলা হয়েছে : বিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আই.এস. বিন্দ্রার প্রয়াণে বিসিসিআই শোক প্রকাশ করছে। বোর্ডের প্রার্থনা ও সমবেদনা তার পরিবার এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে রয়েছে।

আইসিসি চেয়ারম্যান এবং বিসিসিআইর সাবেক সচিব জয় শাহ-ও তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন, বিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এবং ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসনের স্তম্ভ আই.এস. বিন্দ্রার প্রয়াণে গভীর সমবেদনা জানাই। তার কর্মপ্রচেষ্টা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করুক।