ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

টেবিল পলিটিক্সে নীলনকশার ‘বলি’ বাংলাদেশ

জাহিদ হাসান মাহা
প্রকাশিত: জানুয়ারি ২৯, ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ছবি : সংগৃহীত

মাঠের লড়াইয়ে হারেনি বাংলাদেশ, হেরেছে আইসিসির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের নোংরা রাজনীতিতে। বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন কলঙ্কিত অধ্যায়ের সাক্ষী হলো লাল-সবুজের ক্রিকেট। 

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের এই আকস্মিক প্রস্থান কেবল একটি ‘বাদ পড়া’ নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত ‘ক্রিকেটীয় নির্বাসন’। একদিকে আইসিসির নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্ব, অন্যদিকে বিসিবির চরম মেরুদণ্ডহীন কূটনৈতিক অবস্থান—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে হারিয়ে গেল বাংলাদেশ।

নিরাপত্তা ইস্যুতে আইসিসির দ্বিমুখী নীতি এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট। ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত যখন নিরাপত্তার বাহানায় পাকিস্তান সফর বয়কট করল, তখন আইসিসি ‘হাইব্রিড মডেল’ সাজিয়ে বিসিসিআইর আবদার মিটিয়েছিল। 

কিন্তু একই যুক্তিতে বাংলাদেশ যখন ভারতের মাটিতে ম্যাচ স্থানান্তরের যৌক্তিক দাবি তুলল, তখন আইসিসি আলোচনার টেবিলে ঠান্ডা মাথায় বাংলাদেশকে আসর থেকেই সরিয়ে দিল। 

প্রশ্ন উঠেছে, আইসিসি কি এখন বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, নাকি ভারতের আজ্ঞাবহ সাব-অফিস?

ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা যে কেবল অজুহাত ছিল না, তার প্রমাণ আইপিএলেই পাওয়া গিয়েছিল। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল চরমপন্থি রাজনৈতিক চাপের মুখে। 

ভারতীয় মাটিতে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের জীবনের নিরাপত্তা যে সুতোর ওপর ঝুলছে, তা আইসিসি বুঝেও না বোঝার ভান করেছে। এই ধ্রুব সত্যকে আড়াল করে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা বিশ্ব ক্রিকেটে বর্ণবাদী বৈষম্যেরই নামান্তর।

আইসিসি বোর্ডে যখন বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ হচ্ছিল, তখন ফুটে উঠল এক করুণ দৃশ্য। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটে বাংলাদেশ যখন কোণঠাসা, তখন একমাত্র পাকিস্তান ছাড়া আর কোনো বন্ধু খুঁজে পায়নি বিসিবি।

কেন এই নিঃসঙ্গতা? বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে কেন একটি বন্ধু রাষ্ট্র তৈরি করতে পারল না বিসিবি? লবিং ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিসিবির বর্তমান নীতিনির্ধারকদের অযোগ্যতা এখন তুঙ্গে। 

বিশ্বকাপ থেকে এই রহস্যজনক বিদায় বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এক অনিশ্চিত গর্তে ঠেলে দিল। যখন ভারত ও শ্রীলঙ্কার মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে, তখন প্রশ্ন জাগে—বিসিবি কি আদৌ কোনো ক্রিকেটীয় কূটনীতি চালিয়েছিল, নাকি কেবল পদের মোহে মগ্ন ছিল? বিসিবির এই ঐতিহাসিক ব্যর্থতার মাশুল দিতে হচ্ছে কোটি ভক্তের আবেগকে।