ক্রিকেট বিশ্বে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই টানটান উত্তেজনা, গ্যালারি ভরা দর্শক আর কোটি কোটি মানুষের আবেগ। কিন্তু এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চিত্রটা হতে যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করেছে, তারা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কট করবে। আর ঠিক এই জায়গাতেই ট্রাম্পকার্ড চালল বিসিসিআই। পাকিস্তান না খেললেও, ভারত ঠিকই লঙ্কান দ্বীপে পা রাখবে এবং ম্যাচের সব আনুষ্ঠানিকতা পালন করবে।
ভারত জানিয়ে দিয়েছে, তারা আইসিসির নিয়মের বাইরে যাবে না। পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের হুমকির মুখে ভারত পিছু হটা তো দূরে থাক, উল্টো পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জানা যায়, ম্যাচের আগে নির্ধারিত সূচি মেনেই সংবাদ সম্মেলনে আসবেন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। দল নিয়ে করবেন অনুশীলনও।
এবং ম্যাচের দিন নির্দিষ্ট সময়ে স্টেডিয়ামে পৌঁছাবে ভারতীয় দল। ড্রেসিংরুম থেকে শুরু করে ওয়ার্ম-আপ—সবই হবে নিয়মমাফিক।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, নির্ধারিত সময়ে ভারত অধিনায়ক টসের জন্য মাঠে নামবেন। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক সালমান আলি আঘা না এলে রেফারি নিয়ম অনুযায়ী ভারতকে ‘ওয়াকওভার’ বা বিনা লড়াইয়ে জয়ী ঘোষণা করবেন।
পাকিস্তানের এই ‘সিলেক্টিভ’ অংশগ্রহণে আইসিসি রীতিমতো চটেছে। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রীড়া নীতির পরিপন্থি। পাকিস্তান যদি শেষ পর্যন্ত মাঠে না নামে, তবে কেবল ২ পয়েন্ট হারানোই নয়, বড় ধরনের আর্থিক ও কৌশলগত নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়তে পারে দেশটি।
ভারত ও পাকিস্তান ছাড়াও এই গ্রুপে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র ও নামিবিয়া। পাকিস্তানের বয়কট ভারতের জন্য সেমিফাইনালের পথ অনেকটা সহজ করে দিলেও, কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্ত বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন বছরের সেরা লড়াই দেখা থেকে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিসিআইয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা আইসিসির প্রটোকল মেনে চলব। আমরা মাঠে যাব, অপেক্ষা করব। প্রতিপক্ষ না এলে নিয়ম যা বলে, তাই হবে।


