বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের যৌন হয়রানি সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগের তদন্তে তৎকালীন নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, জাহানারার করা মোট চারটি অভিযোগের মধ্যে দুটি প্রমাণিত হয়নি, তবে বাকি দুটি অভিযোগে মঞ্জুরুল ইসলামের ‘অসদাচরণ’ ও ‘হয়রানি’র প্রাথমিক প্রমাণ কমিটি পেয়েছে।
২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বিসিবি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি তারিক উল হাকিমের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি স্বাধীন উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির দায়িত্ব ছিল জাহানারার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা এবং পেশাদার ক্রিকেট প্রশাসনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া। কমিটির মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো হয়, এবং দীর্ঘদিনের তদন্ত শেষে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তারা তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদন ২ ফেব্রুয়ারি বিসিবি সভাপতির কাছে পৌঁছায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তৎকালীন ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের আচরণ পেশাদার মানদণ্ডের পরিপন্থী ছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী তার কিছু কাজ ‘অসদাচরণ’ এবং ‘হয়রানি’র পর্যায়ে পড়ে। যদিও মঞ্জুরুল ইসলামের সঙ্গে বিসিবির চুক্তি গত বছরের জুনে শেষ হয়ে গেছে, বোর্ড এখনো তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রেখে আইনগত পরামর্শ গ্রহণ করছে।
বিসিবি প্রতিবেদনে স্পষ্ট করেনি যে, জাহানারার কোন দুটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। এছাড়া, প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া দুটি অভিযোগের বিস্তারিত ব্যাখ্যাও এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
তদন্ত প্রতিবেদনের পর বিসিবি ঘোষণা করেছে যে, ক্রিকেটাঙ্গনে নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করতে একটি স্থায়ী ‘অভিযোগ কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। হাইকোর্টের ২০০৯ সালের রায় অনুযায়ী গঠিত এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন বোর্ড পরিচালক রুবাবা দৌলা। কমিটির মাধ্যমে ভবিষ্যতে যেকোনো ক্রিকেটার বা কর্মকর্তা যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার হলে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন।
গত বছরের নভেম্বরের শুরুতে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক রিয়াসাত আজিমের ইউটিউব চ্যানেলে জাহানারা আলম গুরুতর অভিযোগ করেন। অভিযোগের মধ্যে ছিল যৌন হয়রানিসহ নানা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি। তিনি তার সতীর্থ নিগার সুলতানা জ্যোতির বিরুদ্ধেও কিছু অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ক্রিকেট মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। কমিটি গঠনের তিন মাস পর তাদের তদন্ত প্রতিবেদন বিসিবিকে জমা দেওয়া হয়।
বিসিবির এই পদক্ষেপকে ক্রিকেটাঙ্গনে সততা, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বোর্ডের তরফ থেকে বলা হয়েছে যে, তারা এই ধরনের অভিযোগ মোকাবেলায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত রাখবে।

