লক্ষ্যটা ছিল পাহাড়প্রমাণ—২০৪ রান। ডব্লিউপিএল ফাইনালে এত বড় রান তাড়া করা যেকোনো দলের জন্যই দুঃস্বপ্ন। তার ওপর দলের অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা খেলছিলেন তীব্র জ্বর নিয়ে। কিন্তু ফাইনালে জ্বরের কাছে হার মানেননি তিনি। বরং ব্যাটে ঝড় তুলে দিল্লি ক্যাপিটালসকে গুঁড়িয়ে দিয়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুকে দ্বিতীয়বারের মতো ট্রফি উপহার দিলেন মান্ধানা।
শুরুতেই বিপদ, হাল ধরলেন মান্ধানা লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৭ বলের মাথায় গ্রেস হ্যারিস ফিরে গেলে চাপে পড়ে গিয়েছিল আরসিবি। দলের রান তখন মাত্র ১৫। ক্রিজে অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা। শরীর ভালো না থাকলেও প্রথম বলেই ইমপেক্সিবল টাইমিংয়ে কভার ড্রাইভ মেরে বুঝিয়ে দেন, আজ অন্য কিছু হতে চলেছে।
পাওয়ারপ্লেতে মান্ধানা বেশি স্ট্রাইক না পেলেও অন্য প্রান্তে আগ্রাসী ব্যাটিং করেন জর্জিয়া ভোল। পাওয়ারপ্লের শেষ দুই বলে মন্ধানা দুটি বাউন্ডারি মেরে নিজের ইঙ্গিত স্পষ্ট করে দেন। এরপর আরসিবি শিবিরে কোনো ভয়ের কারণই ছিল না। পাওয়ারপ্লের পর শুরু হয় আসল মান্ধানা শো।
মান্ধানার এই ইনিংস দেখে মুগ্ধ আরসিবি কোচ মালোলান রঙ্গরাজন। তিনি বলেন, এই ইনিংস অমানুষিক! ওর ব্যাটিংয়ে কন্ট্রোল ছিল অসাধারণ। ওকে দেখে মনেই হয়নি যে ওরা ২০০ রান তাড়া করছে।
কোচ জানান, খেলা চলাকালীন মান্ধানা তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে পিচ ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো, তাই উইকেট ছুড়ে না দিয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকলেই ম্যাচ জেতা সম্ভব।
পরিসংখ্যানে মন্ধানার আধিপত্য
রান: ৪১ বলে ৮৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস
স্ট্রাইক রেট: স্পিনারদের বিরুদ্ধে ২১০ এবং পেসারদের বিরুদ্ধে ২১৪.২৮
এই আসরে প্রথম ভারতীয় হিসেবে ‘অরেঞ্জ ক্যাপ’ জিতেছেন তিনি। পাশাপাশি ডব্লিউপিএল ইতিহাসে দ্রুততম ১০০০ রানের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন।


