মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সোমবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জার্সিতে দেখা যায়নি অভিজ্ঞ অফ-স্পিনার রোস্টন চেজকে। সুপার এইটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারের বাদ পড়া নিয়ে ক্রিকেট মহলে যখন নানা গুঞ্জন, তখন ক্যারিবীয় অধিনায়ক শাই হোপের একটি রহস্যময় মন্তব্য জল্পনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
হোপের ইঙ্গিত—আগামী ১ মার্চ কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ভারতের বিপক্ষে বড় কোনো চমক হিসেবেই চেজকে তুলে রাখা হয়েছে।
জিম্বাবুয়েকে ১০৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে হোপকে চেজের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি মৃদু হেসে বলেন, সাথে থাকুন। টস করার সময় যখন আমি টিম শিট জমা দেব, তখনই সবাই দেখতে পাবেন সেদিন কারা খেলছে।
অধিনায়কের এই কৌশলী মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ভারতের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নিজেদের সেরা অস্ত্রকে আড়ালে রাখতে চাইছে উইন্ডিজ ম্যানেজমেন্ট।
কেন ভারতের জন্য ‘ভয়’ হতে পারেন চেজ? সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ভারতীয় টপ-অর্ডার ব্যাটাররা অফ-স্পিন বোলিংয়ের সামনে কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ছেন।
ভারতের খেলা শেষ তিনটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষ দলগুলো অফ-স্পিনার দিয়ে বোলিং শুরু করে দ্রুত সাফল্য পেয়েছে। ৩৩ বছর বয়সী রোস্টন চেজ এই বিশ্বকাপে দারুণ ছন্দে আছেন। ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ ৩৪ ও ২৪ রানের ইনিংস খেলার পাশাপাশি বল হাতে ৩/২৯ এবং ১/১০ এর মতো মিতব্যয়ী স্পেল উপহার দিয়েছেন তিনি।
ভারতের বিপক্ষে ‘নক-আউট’ সমতুল্য ম্যাচে চেজ হতে পারেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মূল ‘এক্স-ফ্যাক্টর’।
সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে চেজ না থাকলেও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় পেতে কোনো বেগ পেতে হয়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। প্রথমে ব্যাট করে ২৫৪ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ গড়ে তারা, যা এই বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। জবাবে আকিল হোসেন ও গুডাকেশ মোতির ঘূর্ণিতে কুপোকাত হয় জিম্বাবুয়ে।
বাঁ-হাতি স্পিনার আকিল হোসেন ২৮ রানে ৩ উইকেট নিয়ে শুরুতে ধাক্কা দেন। অন্যদিকে, লেফট-আর্ম রিস্ট স্পিনার গুডাকেশ মোতি মাত্র ২৮ রান খরচায় তুলে নেন ৪টি উইকেট।
টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ১০ উইকেট শিকার করে সর্বোচ্চ উইকেটদাতার তালিকায় যৌথভাবে তিনে উঠে এসেছেন মোতি। অধিনায়ক হোপ তার এই স্পিনারের প্রশংসা করে বলেন, মোতি তার দক্ষতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা বাঁ-হাতি ব্যাটারদের বিপক্ষে আমাদের বড় সুবিধা দিচ্ছে।
এদিন বোলিংয়ের আগে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছিলেন শিমরন হেটমায়ার। আইপিএলের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই ব্যাটার মাত্র ৩৪ বলে ৮৫ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৭টি চার ও ৭টি ছক্কার মার। তার এই ফর্ম ভারতের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে।



