ঘরের মাঠে আয়োজিত বিশ্বকাপ উৎসবে ভারত কি ছিটকে যাবে, নাকি দাপটের সঙ্গেই সেমিফাইনালের টিকিট কাটবে? আগামীকাল রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে সেই উত্তর খুঁজতেই মাঠে নামছে সূর্যকুমার যাদবের দল।
এদিন মাঠের প্রতিপক্ষ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম ভয়ংকর দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সমীকরণটা একদম পরিষ্কার—যেই জিতবে, সেই চলে যাবে শেষ চারে, আর হারলেই বিশ্বকাপ মিশন শেষ।
কাগজে-কলমে ভারত ফেবারিট হলেও মাঠের লড়াইয়ে কোনো পক্ষকে এগিয়ে রাখা কঠিন। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বড় হারের পর দুই দলই জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।
অদ্ভুত বিষয় হলো, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই দলের রানও ছিল প্রায় কাছাকাছি। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ভারতের লড়াইটা হবে মূলত স্নায়ুর। ২০২৩ সালের আগস্টে শেষবার ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছিল ক্যারিবিয়ানরা। সেই হারের ক্ষত এখনো টাটকা।
চলতি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা রীতিমতো ছক্কার বৃষ্টি ছুটিয়েছেন। যেকোনো দলের চেয়ে বেশি ছক্কা হাঁকিয়ে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে, তাদের পাওয়ার হিটিং কতটা ভয়ংকর।
তবে ভারতের শক্তির জায়গা তাদের বোলিং আক্রমণ। জাসপ্রিত বুমরাহ, অর্শদীপ সিং এবং স্পিনার বরুণ চক্রবর্তীর বৈচিত্র্য যেকোনো হিটারকে আটকে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। কোচ ড্যারেন স্যামির মতে, ইডেনের উইকেট বেশ শুষ্ক থাকবে, যা স্পিনারদের জন্য সহায়ক হতে পারে।
ভারতের তরুণ ওপেনার অভিষেক শর্মাকে নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা করছে উইন্ডিজ শিবির। অফ-স্পিনের বিরুদ্ধে অভিষেকের দুর্বলতা কাজে লাগাতে পারেন রস্টন চেজ। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের টপ অর্ডারে ব্র্যান্ডন কিংয়ের থাকা তাদের ব্যাটিং গভীরতা আরও বাড়িয়েছে।
বাবার মৃত্যুর শোকে থাকা রিঙ্কু সিং দলের সাথে যোগ দিলেও এই ম্যাচে তার খেলার সম্ভাবনা নেই বলে জানা যায়। ফলে মিডল অর্ডারে সঞ্জু স্যামসন ও ইশান কিষানদের ওপর বড় দায়িত্ব থাকবে।
এদিকে, পরিসংখ্যানও ভারতের হয়ে কথা বলছে। ১৯৮৩ সালের পর থেকে ইডেন গার্ডেন্সে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচেই ভারতকে হারাতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।


