নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তখনো প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ‘চাক দে ইন্ডিয়া’। নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে রেকর্ডগড়া তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘরে তুলেছে ভারত। আর এই ঐতিহাসিক অর্জনের পরপরই বিশ্বজয়ী বীরদের জন্য বড় ঘোষণা নিয়ে হাজির হলো ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের এই অভাবনীয় সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ স্কোয়াড, সাপোর্ট স্টাফ এবং নির্বাচকদের জন্য মোট ১৩১ কোটি রুপির বিশাল অর্থ পুরস্কার ঘোষণা করেছে বোর্ড।
২০২৪ সালে বার্বাডোস জয়ের পর ১২৫ কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। এবার নিজেদের মাটিতে শিরোপা ধরে রাখার কৃতিত্বকে আরও বড় সম্মান দিতেই এই অংকের বৃদ্ধি।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বিসিসিআই জানিয়েছে, এই ঐতিহাসিক অর্জন কেবল মাঠের জয় নয়, এটি বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের অবিসংবাদিত আধিপত্যের প্রমাণ। এই বিশাল অঙ্কের পুরস্কার খেলোয়াড়দের পরিশ্রমের স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যতে ক্রিকেটে ভারতের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার একটি বড় বিনিয়োগ।
আহমেদাবাদের ফাইনালে কিউইদের বিপক্ষে লড়াইটি যেন ছিল কেবলই এক রাজ্যাভিষেক। বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো ভারত।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলও টানা দুবার শিরোপা জেতার এই দুর্লভ কীর্তি গড়তে পারেনি।
তবে শিরোপা জয়ের এই পথটি মোটেও সহজ ছিল না। গ্রুপ পর্বে টানা চার ম্যাচ জিতে উড়তে থাকা ভারত বড় ধাক্কা খেয়েছিল সুপার এইটে। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৭৬ রানের শোচনীয় পরাজয় ভারতের টিকে থাকাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছিল।
কিন্তু চাপের মুখে ভেঙে না পড়ে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ায় মেন ইন ব্লু-রা। জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় এবং সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের সাথে হাই-ভোল্টেজ থ্রিলার জিতে তারা ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে।
এই জয়ের মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করল ভারত। ২০০৭, ২০২৪ এবং ২০২৬—তিনটি শিরোপা জিতে তারা টপকে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডকে (যাদের শিরোপা সংখ্যা ২টি করে)।



