ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কাবুলের হাসপাতালে ভয়াবহ বিমান হামলা, ক্ষোভে ফুঁসছেন রশিদ-নবিরা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ১৭, ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে পড়েছে বিশ্ব। ওমিদ অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে চালানো এই হামলায় অন্তত ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

মর্মান্তিক এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আফগান ক্রিকেটাররা। নিজ দেশের সাধারণ মানুষের ওপর এমন হামলায় ক্ষোভ, ঘৃণার পাশাপাশি বিচার চেয়েছেন রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি ও ইব্রাহিম জাদরানের মতো তারকারা।

আফগান ক্রিকেটের পোস্টার বয় রশিদ খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এই হামলাকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা চিকিৎসা কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো, তা ইচ্ছাকৃত হোক বা ভুলবশত—একটি স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ।

পবিত্র রমজান মাসে মানুষের প্রাণের প্রতি এই চরম অবজ্ঞাকে তিনি ‘অসুস্থ মানসিকতা’ বলে বর্ণনা করেন এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে এই নৃশংসতার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান।

তারকা অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবি লেখেন, আজ রাতে কাবুলে একটি হাসপাতালে আশার প্রদীপ নিভিয়ে দেওয়া হলো। নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন তরুণদের বোমা মেরে হত্যা করা হয়েছে। রমজানের ২৮তম রাতে মায়েদের আর্তনাদ আর সন্তানদের হারানোর এই ক্ষত কখনো শুকাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। যেখানে মানুষের সুস্থ হওয়ার কথা, সেখানে এমন মৃত্যুযজ্ঞ তাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

আফগানিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক ইব্রাহিম জাদরান জানান, বিস্ফোরণের সময় তিনি কাবুলেই অবস্থান করছিলেন। 

নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি বিকট শব্দ শুনতে পাই এবং কিছুক্ষণ পরেই হাসপাতালের দিক থেকে আকাশে আগুনের কুণ্ডলী উঠতে দেখি। যারা পরের দিন রোজা রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তাদের এভাবে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না এই ক্রিকেটার। শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ন্যায়বিচারের জন্য প্রার্থনা করেছেন।

এই ঘটনায় সরব হয়েছেন নাভিন-উল-হক, গুলবাদিন নাইব এবং তরুণ স্পিনার নূর আহমদের মতো অন্য ক্রিকেটাররাও। নাভিন এই ট্র্যাজেডিকে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের মানবিক সংকটের সাথে তুলনা করেছেন। 

অন্যদিকে ফাস্ট বোলার ওয়াফাদার মোমান্দ এই হাসপাতালকে ‘মানবতার ঘর’ হিসেবে উল্লেখ করে একে নীতি-নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন বলে দাবি করেন।