ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ইডেনের সব আলো কেড়ে নিলেন রাজস্থানের তরুণ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ১০, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
মুকুল চৌধুরী। ছবি : সংগৃহীত

ইডেন গার্ডেন্সের ফ্লাডলাইটের নিচে কত মহাকাব্যিক ইনিংস লেখা হয়েছে তার সঠিক হিসাব নেই। কিন্তু বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে যা দেখা গেল, তা কোনো অভিজ্ঞ তারকার হাত ধরে নয়, বরং এলো রাজস্থানের ২১ বছর বয়সী এক তরুণের ব্যাট থেকে। 

লখনৌ সুপার জায়ান্টসের জার্সিতে মুকুল চৌধুরী কেবল একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেননি, বরং কেকেআরের নিশ্চিত জয়ের মুখ থেকে ম্যাচটি ছিনিয়ে এনেছেন। তার ২৭ বলে ৫৪ রানের অপরাজিত ইনিংসটি আইপিএল ২০২৬ মৌসুমের অন্যতম সেরা ‘ক্লিন হিটিং’ হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নেবে।

লখনৌয়ের জয়ের পথটা একসময় অসম্ভব মনে হচ্ছিল। ১৮২ রান তাড়া করতে নেমে ১৬ ওভার শেষে মাত্র ১২৮ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে দলটি। ক্রিজে এসে মুকুল যখন গার্ড নিলেন, গ্যালারি তখন কেকেআরের জয় উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

কিন্তু মুকুল দমে যাননি। ১৭তম ওভারে বৈভব অরোরাকে জোড়া ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের উপস্থিতির জানান দেন তিনি। এরপর ১৮তম ওভারে কার্তিক ত্যাগীর গতির বিরুদ্ধে নিজের শারীরিক শক্তি ব্যবহার করে আরও দুটি বড় ছক্কা আদায় করে নেন এই হার্ডহিটার।

ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরে যায় ১৯তম ওভারে। অজি তারকা ক্যামেরন গ্রিনের ওপর চড়াও হয়ে ১৬ রান তুলে নেন মুকুল। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেওয়ার পথে অরোরাকে আরও দুটি ছক্কা মেরে নিজের অভিষেক হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। তার এই দানবীয় ইনিংসে ছিল ৭টি বিশাল ছক্কা, যা ইডেনের দর্শকদের স্তব্ধ করে দেয়।

ম্যাচ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে মুকুল জানান, এই লড়াই তার বাবার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণের। সিকর এবং ঝুনঝুনুর মতো এলাকা থেকে উঠে আসা এই ক্রিকেটারের যাত্রাপথ সহজ ছিল না। 

উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য তাকে দিল্লি ও গুরগাঁও পাড়ি দিতে হয়েছিল। মজার বিষয় হলো, ক্যারিয়ারের শুরুতে মুকুল ছিলেন একজন মিডিয়াম পেসার। কিন্তু জয়পুরের একাডেমিতে থাকাকালীন দলে উইকেটকিপার না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই গ্লাভস হাতে তুলে নিয়েছিলেন। সেই আকস্মিক পরিবর্তনই আজ তাকে উইকেটের পেছন থেকে বোলারদের মনস্তত্ত্ব বুঝতে সাহায্য করছে।

নিলামের টেবিলে লখনৌ সুপার জায়ান্টস কেন তাকে ২.৬ কোটি টাকায় কিনেছিল, কালকের ইনিংসের পর তা নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন রইল না। 

সৈয়দ মুস্তাক আলী ট্রফিতে রাজস্থানের হয়ে প্রায় ১৯৯ স্ট্রাইক রেটে রান তুলে আগেই নজরে এসেছিলেন তিনি। মুকুলের ব্যাটিংয়ের বড় শক্তি হলো তার মানসিক স্বচ্ছতা। প্রথাগত র‍্যাম্প বা রিভার্স সুইপের চেয়ে সোজা ব্যাটে আকাশছোঁয়া ছক্কা মারতেই বেশি পছন্দ করেন এই তরুণ।