আইপিএল ২০২৬-এর শুরুটা ছন্নছাড়া হলেও অবশেষে নিজেদের হারানো ছন্দ খুঁজে পেল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে তিলক ভার্মার শতরানে ভর করে গুজরাট টাইটান্সকে ৯৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে হার্দিক পান্ডিয়ার দল।
এদিন টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেয় মুম্বাই ম্যানেজমেন্ট। টানা ব্যর্থ ওপেনার রায়ান রিকেলটনকে বসিয়ে অভিষেক ঘটানো হয় তরুণ দানিশ মালেওয়ারের। পাশাপাশি দুই বিদেশি স্পিনার মিচেল স্যান্টনার ও আল্লাহ গজানফরকে একাদশে অন্তর্ভুক্ত করে তারা।
তবে ব্যাটিংয়ের শুরুটা মোটেও আশাব্যঞ্জক ছিল না। পাওয়ার প্লে-তে মাত্র ৪৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা মুম্বাই ১০ ওভার শেষে সংগ্রহ করে মাত্র ৭৫ রান।
ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে যায় ব্যাটিং টাইমআউটের পর। অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়ার সঙ্গে মাঠের মাঝখানে দীর্ঘ আলোচনার পর সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে আবির্ভূত হন তিলক ভার্মা।
ইনিংসের শুরুতে নিজের প্রথম ২২ বলে মাত্র ১৯ রান করা তিলক পরের ২৩ বল থেকে আদায় করে নেন ৮২ রান! মাঠের চারদিকে স্ট্রোকের ফুলঝুরি ফুটিয়ে তিনি মাত্র ৪৫ বলে নিজের প্রথম আইপিএল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন।
বিশেষ করে শেষ চার ওভারে মুম্বাইয়ের সংগৃহীত ৭৩ রান গুজরাট বোলারদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। তিলকের অপরাজিত ১০১ রানের ইনিংসে ভর করে ৫ উইকেটে ১৯৯ রানের পাহাড় গড়ে মুম্বাই।
আইপিএল ইতিহাসে ৫ নম্বর পজিশনে নেমে সেঞ্চুরি করা চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে নজির গড়েন তিনি। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া জানান, তিলকের প্রতিভার ওপর তার অগাধ বিশ্বাস ছিল এবং তাকে শুধু বল দেখে স্বাভাবিক শট খেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি।
২০০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আহমেদাবাদের কালো মাটির পিচে অসহায় আত্মসমর্পণ করে গুজরাট টাইটান্স। মুম্বাইয়ের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে গুজরাটের কোনো ব্যাটারই ৩০ রানের কোটা পার করতে পারেননি।
নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত মাত্র ১০০ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকদের ইনিংস। ফলে ৯৯ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পায় হার্দিকের দল।


