আইপিএল ২০২৬ যেন বোলারদের জন্য এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ২৬৫ রানের বিশাল লক্ষ্যও এখন নিরাপদ নয়, যা সাত বল বাকি থাকতেই টপকে যাচ্ছে দলগুলো। টুর্নামেন্ট যত গড়াচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে যে এটি এখন পুরোপুরি ব্যাটারদের রাজত্ব। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে ২৪৪ রান তাড়া করে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের দাপুটে জয়ের পর বোলারদের এই অসহায়ত্ব নিয়ে মুখ খুলেছেন লিজেন্ডারি স্পিনার ও হায়দরাবাদের বোলিং কোচ মুত্তিয়া মুরালিধরন।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মুরালিধরন সরাসরি জানান, আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বোলারদের এখন স্রেফ মেনে নিতে হবে যে তারা মার খাবেন।
মুরালিধরন বলেন, বোলারদের জন্য কাজটা এখন অত্যন্ত কঠিন। আমাদের সময়ে পাওয়ার-প্লেতে এক উইকেট হারিয়ে ৪০ থেকে ৫০ রান তোলাকে ভালো মনে করা হতো, কিন্তু এখন গড় রান উঠছে ৭০ থেকে ৮০।
সাবেক এই কিংবদন্তি বোলার উদাহরণ হিসেবে ২৩ বছর বয়সী তরুণ সলিল অরোরার কথা টেনে বলেন, বুমরাহ’র মতো বিশ্বমানের বোলারের বলে যখন একজন তরুণ ক্রিকেটার ‘নো-লুক সিক্স’ মারে, তখন বুঝতে হবে খেলার ধরন বদলে গেছে। এখনকার তরুণরা বুমরাহ’র সামনে টিকে থাকার কথা ভাবে না, তারা ভাবে কীভাবে তাকে ছক্কা মারা যায়। এই আত্মবিশ্বাসই আধুনিক ক্রিকেটের মূল শক্তি।
স্পিন বোলিংয়ের বর্তমান অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মুরালিধরন জানান, তরুণ স্পিনাররা এখন বল টার্ন করানোর চেয়ে জোরে বোলিং করার দিকে বেশি মনোযোগ দেয়। ১০-১২ বছর বয়স থেকেই যদি বল ঘোরানোর অভ্যাস না করা হয়, তবে পেশির গঠন বা 'মাসল মেমরি' সেভাবেই তৈরি হয়ে যায়। ফলে বড় হয়ে তারা আর বল টার্ন করাতে পারে না। যদি বল না ঘোরে, তবে ব্যাটারদের কাছে বোলারকে নেটের 'থ্রো-ডাউন' বোলার মনে হয়।
নিজের বা সমসাময়িক কিংবদন্তি শেন ওয়ার্নের কথা টেনে তিনি যোগ করেন, আমি বা ওয়ার্ন এই সময়ে খেললে হয়তো বল টার্ন করাতে পারতাম, কিন্তু খুব বেশি সুবিধা করতে পারতাম না। উইকেট এখন এতটাই ব্যাটারদের সহায়ক যে, আমরা ভালো বল করলেও অনায়াসেই ৪০ রান উঠে যেত। এখনকার সময়ে ৪ ওভারে ৪০ রান দেওয়া মানেই বোলার ভালো করেছে বলে ধরে নেওয়া হয়।


