ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সেফ হাউসে ৫ ইরানি নারী ফুটবলার

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
ইরান নারী ফুটবল দল। ছবি : সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ায় চলমান উইমেন’স এশিয়ান কাপে অংশ নিতে আসা ইরান জাতীয় নারী ফুটবল দলের পাঁচ সদস্য বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে একটি ‘সেফ হাউসে’ আশ্রয় নিয়েছেন। 

টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফিলিপাইনের কাছে হারের পর দলের বাকিদের দেশে ফেরার কথা থাকলেও, এই পাঁচ খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক শঙ্কা তৈরি হয়েছে। মূলত জাতীয় সঙ্গীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে ইরানে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হুমকির প্রেক্ষিতে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে আসরের প্রথম ম্যাচে। সেই ম্যাচে ইরানের জাতীয় সঙ্গীত গাইতে অস্বীকৃতি জানান ফুটবলাররা। এরপর থেকেই ইরানে কট্টরপন্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। 

ইরানের একজন প্রভাবশালী রক্ষণশীল টেলিভিশন উপস্থাপক এই ফুটবলারদের ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। বিবিসির এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই হুমকির পর থেকেই খেলোয়াড়দের মধ্যে দেশে ফেরা নিয়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গত রোববার গোল্ড কোস্টে স্টেডিয়াম থেকে বের হওয়ার সময় এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কয়েকশ সমর্থক ইরানের টিম বাস ঘিরে ধরে ‘আমাদের মেয়েদের বাঁচাও’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। 

ফিফপ্রোর তথ্যমতে, টিম হোটেলের ভেতরেও গত কয়েক দিনে অস্থিরতা বিরাজ করছিল। বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় মানবাধিকার কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পর হোটেল লবি ত্যাগ করেন, যা দলের ভেতর বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ও ভীতির সঞ্চার করে।

টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ইরানি খেলোয়াড়দের জাতীয় সঙ্গীত গাইতে এবং স্যালুট করতে দেখা গেলেও, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা এটি ছিল চাপের মুখে করা একটি কাজ। 

অভিযোগ উঠেছে যে, দলের সঙ্গে আসা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সদস্যরা খেলোয়াড়দের ওপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি করে তাদের এই আচরণ করতে বাধ্য করেছেন। 

বিশ্বব্যাপী খেলোয়াড়দের সংগঠন ফিফপ্রোর এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের সভাপতি বিউ বুশ সিডনিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ফিফা ও অস্ট্রেলিয়ান সরকারকে এই ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে এই সংকটে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন যে, ইরান দলকে জোরপূর্বক দেশে ফিরতে দিয়ে অস্ট্রেলিয়া একটি ‘ভয়াবহ মানবিক ভুল’ করছে। 

ট্রাম্প আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ইরানে ফিরলে এই খেলোয়াড়দের প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে। তিনি অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ফুটবলারদের আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অস্ট্রেলিয়া রাজি না হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের আশ্রয় দিতে প্রস্তুত।