দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে নারী এশিয়ান কাপের উদ্বোধনী ম্যাচ, গ্যালারিতে হাজারো দর্শক, ক্যামেরার লেন্স খেলোয়াড়দের মুখে। কিন্তু ইরানের জাতীয় সংগীত বাজার সময় গ্যালারি স্তব্ধ হয়ে গেল এক অভাবনীয় দৃশ্যে।
নিজেদের জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানালেন ইরান নারী ফুটবলাররা। মূলত দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রতিবাদে বিশ্বমঞ্চে এই পদক্ষেপ তাদের।
উদ্বোধনী ম্যাচে সাহসের পরিচয় দিলেও টুর্নামেন্টের পরের ম্যাচগুলোতে চিত্র বদলে যায়। অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইনের বিপক্ষে ম্যাচে নারী ফুটবলারদের জাতীয় সংগীত গাইতে এবং স্যালুট দিতে দেখা যায়।
এই আকস্মিক পরিবর্তন নিয়ে শুরু হয় নানা গুঞ্জন। সেসময়ে অনেকেই ধারণা করেছে, সরকারি প্রতিনিধিদের প্রবল চাপ কিংবা দেশে ফেরার পর কঠোর শাস্তির ভয়ে তারা পরবর্তী ম্যাচগুলোতে জাতীয় সংগীত গাইতে বাধ্য হয়েছেন। এমনকি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক উপস্থাপক তাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন।
ইরান পুরুষ দলের সাবেক কোচ আফশিন গোতবি এই পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, কল্পনা করুন তারা ঠিক কতটা চাপের মধ্যে আছে। মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই তাদের ভাবতে হয় তারা কীভাবে দাঁড়াবে, কোন দিকে তাকাবে বা কী করবে। এটি খেলোয়াড়দের জন্য ভীষণ অন্যায়।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই নারীরা এখন একেকজন প্রতীকে পরিণত হয়েছে। আসলে তারা প্রত্যেকেই বীর।
এদিকে টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশে ফেরার পর সম্ভাব্য শাস্তির হাত থেকে বাঁচাতে সোমবার দলের পাঁচজন নারী সদস্যকে মানবিক ভিসা প্রদান করেছে অস্ট্রেলিয়া। তারা সেখানে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকলেও দলের বাকি খেলোয়াড়রা গত মঙ্গলবার রাতেই অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করেছেন।


