২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি মাত্র এক মাস। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দর্শকদের জন্য এল এক দারুণ স্বস্তির খবর। গত কয়েক মাস ধরে আমেরিকায় যাতায়াত ও আবাসন খরচ আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কায় যারা চিন্তিত ছিলেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি ভিন্ন। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার বিমান ভাড়া ও হোটেল খরচ নাটকীয়ভাবে কমতে শুরু করেছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টের এক প্রতিবেদনে জানায়, আয়োজক শহরগুলোতে যাতায়াতের জন্য বিমানের রিটার্ন টিকিটের দাম আগের তুলনায় অনেক কমেছে। উদাহরণস্বরূপ, নিউক্যাসেল থেকে ডালাস ও নিউ ইয়র্ক হয়ে ফেরার যে টিকিট আগে ১,০০০ পাউন্ডের বেশি ছিল, তা এখন ৯৪৫ পাউন্ডে নেমে এসেছে।
এছাড়া আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন হয়ে যারা ভ্রমণ করছেন, তারা আমেরিকান এয়ারলাইনস ও এর লিঙ্গাস-এর ফ্লাইটে মাত্র ৬৪৫ পাউন্ডে যাতায়াত করতে পারছেন, যা আগে ৮০০ পাউন্ডের উপরে ছিল। এক্ষেত্রে দর্শকরা ডাবলিনে মার্কিন প্রি-ক্লিয়ারেন্সের সুবিধাও পাচ্ছেন।
বিমানের টিকিটের পাশাপাশি হোটেলের ভাড়াতেও বড় ধস লক্ষ্য করা গেছে। টুর্নামেন্টের অন্যতম ভেন্যু মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ড বনাম পানামা ম্যাচের সময় ম্যানহাটনের হোটেলগুলোতে রুম ভাড়া প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে, সাধারণ মানের বা বাজেট হোটেলগুলোর খরচ আগের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আমেরিকান হোটেল অ্যান্ড লজিং অ্যাসোসিয়েশন জানায়, ফিফা চাহিদার কথা বললেও অনেক শহরে বুকিং এখন প্রত্যাশার চেয়ে কম।
জানা যায়, অতিরিক্ত খরচ, কঠোর ভিসা নিয়ম এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের কড়াকড়ির আশঙ্কায় অনেক আন্তর্জাতিক সমর্থক ভ্রমণে নিরুৎসাহিত হয়েছেন। ফলে চাহিদা কমে যাওয়ায় এয়ারলাইনস ও হোটেলগুলো দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছে।
এদিকে ফুটবল ভক্ত নন এমন সাধারণ পর্যটকরাও এখন স্বাভাবিক গ্রীষ্মকালীন সময়ের চেয়ে অনেক কম খরচে লস অ্যাঞ্জেলেস বা নিউ ইয়র্কের মতো শহরগুলোতে ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন।


