যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা এবং স্টেডিয়ামে প্রবেশাধিকার নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-অংশ নিতে ইরানের জাতীয় ফুটবল দল মেক্সিকোতে পৌঁছেছে। ইরানের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হবে। তবে খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের জানানো হয়েছে যে, ম্যাচের দিনই বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে এসে খেলা শেষে আবার ফিরে যেতে হবে।
এদিকে ইরান দাবি করেছে, আরও ১৫ জন কর্মকর্তা ও সাপোর্ট স্টাফকে ভিসা দেওয়া হয়নি। দেশটির এক কর্মকর্তা এই সিদ্ধান্তকে ‘ক্রীড়াক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের নিকৃষ্টতম উদাহরণ’ বলে অভিহিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন। ইরান ২০২৫ সালের মার্চে নিজেদের বাছাইপর্বের গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে। এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রায় এক বছর আগে।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই প্রথম আসর, যেখানে আয়োজক দেশগুলোর একটি এমন একটি দেশের দলকে স্বাগত জানাচ্ছে, যার সঙ্গে তাদের চলমান রাজনৈতিক ও সামরিক বিরোধ রয়েছে।
স্থানীয় সময় রোববার (৭ জুন) ভোরে ইরান দলটি মেক্সিকোর টিহুয়ানায় পৌঁছায়। মে মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টুকসন শহর থেকে তাদের প্রশিক্ষণ ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়ার পর দলটি সেখানে অবস্থান করছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিতব্য ইরানের উদ্বোধনী ম্যাচের ১০ দিন আগে, অর্থাৎ শুক্রবার, সব খেলোয়াড় এবং ‘প্রয়োজনীয় সহায়ক কর্মীদের’ ভিসা দেওয়া হয়েছে।
তবে ইরানের রাষ্ট্র-সমর্থিত গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি, তার উপ-সভাপতি এবং একজন মিডিয়া পরিচালকসহ মোট ১৫ জন কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য, ইরানকে ‘মিথ্যা অজুহাতে সন্ত্রাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করানোর জন্য এই ব্যবস্থার অপব্যবহার’ করতে দেওয়া হবে না। তারা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক মন্তব্যেরও পুনরাবৃত্তি করেছেন।
রুবিও বলেছিলেন, ইরানি প্রতিনিধি দলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার অনুমতি দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, ইরানি দলের কয়েকজন খেলোয়াড় বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার অংশ হিসেবে অতীতে এই বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তুরস্কে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস অভিযোগ করেছে যে, ‘ব্যবস্থাপনা ও নির্বাহী কর্মীদের একটি বড় অংশ’ এবং ‘প্রযুক্তিগত উপদেষ্টাদের’ ভিসা না দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ক্রীড়াক্ষেত্রে রাজনৈতিকভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হস্তক্ষেপ করেছে।
দূতাবাসের কর্মকর্তারা এ ঘটনায় ফুটবলের বিশ্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।
গ্রুপ পর্বে ইরানের অন্য দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ক্যালিফোর্নিয়ায় বেলজিয়ামের বিপক্ষে এবং সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে। বিশ্বকাপের পরবর্তী পর্বে উত্তরণের জন্য এই ম্যাচগুলো ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন