বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বেশি সময় বাকি নেই। আর মাত্র চার দিন পরই পর্দা উঠছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ফুটবল আসরের। এবারের বিশ্বকাপে ব্যবহৃত হচ্ছে বেশ কয়েকটি আধুনিক প্রযুক্তি, যা খেলার মান উন্নয়ন, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই প্রতিবেদনে বিশ্বকাপে ব্যবহৃত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি প্রযুক্তি সম্পর্কে তুলে ধরা হলো—
১. স্মার্ট বল
এবারের অফিসিয়াল বলের নাম ত্রিয়োনদা। এই বলের ভেতরে রয়েছে বিশেষ সেন্সর চিপ। ২০২২ সালের বিশ্বকাপেও সেন্সর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল, তবে এবারের চিপ আরও উন্নত। ৫০০ হার্টজ ক্ষমতাসম্পন্ন এই চিপের ওজন মাত্র ১৪ গ্রাম। একবার ৯০ মিনিট চার্জ দিলে এটি প্রায় ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইভ ট্র্যাকিং সুবিধা দিতে সক্ষম।
২. এআই ট্র্যাকিং প্রযুক্তি
এবারের টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)। ম্যাচ চলাকালে খেলোয়াড়দের ডিজিটালি স্ক্যান করে তাদের থ্রিডি অবতার তৈরি করা হবে। এর ফলে ভিএআর (VAR) প্রযুক্তির মাধ্যমে বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো আরও নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ ও গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
৩. রেফারির বডি ক্যামেরা
এই প্রথম বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচেই রেফারিদের সঙ্গে থাকবে বডি ক্যামেরা। এর মাধ্যমে মাঠে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনা রেকর্ড করা হবে। পাশাপাশি দর্শকরাও রেফারির দৃষ্টিকোণ থেকে ম্যাচের বিভিন্ন মুহূর্ত দেখার সুযোগ পাবেন। সম্প্রতি কয়েকটি ম্যাচে পরীক্ষামূলকভাবে এই প্রযুক্তির ব্যবহার দেখা গেছে।
৪. রোবট কুকুর
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে রোবট ডগ বা রোবট কুকুর। উন্নতমানের ক্যামেরাসংবলিত এই রোবটগুলো সন্দেহজনক বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো যাবে। সেখান থেকে লাইভ ভিডিও স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনী প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।
৫. উন্নত অফসাইড প্রযুক্তি
সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করেছে ফিফা। এর মূল লক্ষ্য হলো দ্রুত ও নির্ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ। কোনো খেলোয়াড় অফসাইড অবস্থানে থাকলে রেফারি ও সহকারী রেফারির কাছে তাৎক্ষণিক অডিও সংকেত পৌঁছে যাবে। ফলে অফসাইড সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সময় কম লাগবে এবং ম্যাচ পরিচালনা আরও কার্যকর হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন