বিশ্বকাপের নকআউট পর্বেও নিজেদের আধিপত্যের ছাপ রেখে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। লস অ্যাঞ্জেলেসে সোফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে রালফ রাংনিকের অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে লা রোজারা। মিকেল ওয়ারজাবালের জোড়া গোলের সঙ্গে একটি গোল করেছেন পেদ্রো পোরো।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য দেখায় স্পেন। লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো, পেদ্রি ও আলেক্স বায়েনার সমন্বিত আক্রমণে বারবার চাপে পড়ে অস্ট্রিয়ার রক্ষণভাগ।
প্রথমার্ধেই কয়েকবার গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায় স্পেন। ২৯ মিনিটে কর্নার থেকে কুকুরেয়ার জোরালো শট জালে জড়ালেও গোলরক্ষকের ওপর ফাউলের কারণে ভিএআর পর্যালোচনার পর সেটি বাতিল হয়।
৩৩ মিনিটে ওয়ারজাবালের নিচু শট দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক শ্লাগার। ৩৫ মিনিটে অফসাইডের কারণে লামিন ইয়ামালের একটি প্রচেষ্টাও গোনা হয়নি।
তবে ৩৬ মিনিটে আর স্পেনকে আটকানো যায়নি। মাঝমাঠ থেকে পেদ্রির দুর্দান্ত দৌড়ের পর বল যায় বাঁ দিকে থাকা মার্ক কুকুরেলার কাছে। তার নিখুঁত নিচু ক্রস থেকে কাছ থেকে বাঁ পায়ের শটে জাল খুঁজে নেন মিকেল ওয়ারজাবাল। এই গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্পেন।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল স্পেন। আলেক্স বায়েনার দুর্দান্ত ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে ইয়ামালের খুব কাছ থেকে নেওয়া শট অসাধারণ সেভ করে অস্ট্রিয়াকে ম্যাচে রাখেন শ্লাগার।
দ্বিতীয়ার্ধে পিছিয়ে থাকা অস্ট্রিয়া আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করলেও স্পেনের নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের সামনে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। ৬১ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা সাসা কালাইজিচের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় সমতায় ফেরার সুযোগ হাতছাড়া হয় তাদের।
এর মাত্র পাঁচ মিনিট পরই ম্যাচ কার্যত শেষ করে দেয় স্পেন। ৬৬ মিনিটে কুকুরেয়া বল উদ্ধার করে বাম প্রান্তে থাকা বায়েনাকে দেন। বায়েনার নিখুঁত ক্রস থেকে দৌড়ে এসে হেডে গোল করেন পেদ্রো পোরো। স্পেন জাতীয় দলের জার্সিতে এটিই ছিল তার প্রথম গোল।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও অস্ট্রিয়া কিছু আক্রমণ সাজানোর চেষ্টা করেছিল। ৭৯ মিনিটে কার্নি চুকুয়েমেকার শট অল্পের জন্য বাইরে চলে গেলে ব্যবধান কমানোর সুযোগ নষ্ট হয়।
এরপর ম্যাচের ৮৯ মিনিটে আবারও কুকুরেয়ার পাস থেকেই গোল আসে। বাম দিক দিয়ে উঠে আসা এই ফুলব্যাকের নিচু ক্রস থেকে বক্সের ভেতরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোল করেন ওয়ারজাবাল। কুকুরেলাও ম্যাচে দ্বিতীয় অ্যাসিস্ট তুলে নেন।
শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের দাপুটে জয় নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে স্পেন। ম্যাচজুড়ে বলের দখল, সুযোগ সৃষ্টি এবং আক্রমণের ধার—সব দিক থেকেই অস্ট্রিয়াকে ছাড়িয়ে যায় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
এই জয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠে গেল স্পেন। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ী। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা যেভাবে ছন্দে রয়েছে, তাতে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবেই নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল তারা।

