ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ : শাস্ত্রীয় বিধিনিষেধ ও সতর্কতা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১০:১১ এএম
বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ : বিধিনিষেধ ও সতর্কতা। ছবি : সংগৃহীত

হিন্দু আয়ুর্বেদ শাস্ত্র ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, সূর্যগ্রহণের সময় মহাজাগতিক পরিবর্তনের কারণে পরিবেশ ও মানুষের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হয়। এ কারণে গ্রহণ চলাকালীন বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে চলার প্রচলন রয়েছে।

খাদ্য গ্রহণ ও বিশুদ্ধতা
হিন্দু শাস্ত্রমতে, গ্রহণ চলাকালীন অন্ন গ্রহণ করা অশুভ বলে গণ্য করা হয়। তাই এ সময় রান্না করা বা ভারী খাবার খাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অবশ্য অসুস্থ ব্যক্তি, শিশু বা বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে একান্ত প্রয়োজন হলে জল, ডাবের জল বা হালকা পানীয় গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশ্বাস অনুযায়ী, গ্রহণের অশুভ প্রভাব থেকে জলকে পরিশুদ্ধ রাখতে তাতে তুলসী পাতা ও দূর্বা ঘাস দেওয়ার প্রচলন রয়েছে।

অন্তঃসত্ত্বা নারী ও বিশেষ সতর্কতা
লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, সূর্যগ্রহণ অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই অন্তঃসত্ত্বা নারীদের গ্রহণের সময় ঘরের বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়। এ ছাড়া ক্ষতিকর রশ্মির বিকিরণ থেকে বাঁচতে সবাইকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বিশ্বাস ও বিধিনিষেধ
আয়ুর্বেদ শাস্ত্র ও প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী গ্রহণের সময়কালে কিছু কাজ বর্জনীয় :

(ক) চুল-দাড়ি কাটা : এই সময়ে চুল বা দাড়ি কাটা অনুচিত বলে মানা হয়।

(খ) তুলসী স্পর্শ : তুলসী গাছ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

(গ) গয়না বা পিন : সেফটিপিন বা ধাতব গয়না পরে থাকা অশুভ বলে ধারণা করা হয় (যদিও এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই)।

অশুভ শক্তি : সূতক কাল এবং গ্রহণ চলাকালীন অশুভ শক্তির প্রভাব বাড়ে বলে বিশ্বাস করা হয়। তাই নির্জন স্থান বা শ্মশানে যেতে বারণ করা হয়।

গ্রহণ-পরবর্তী করণীয়
সূর্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর স্নান করে শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করা এবং দান-ধ্যান করা শাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী পুণ্য কাজ বলে গণ্য হয়।

বৈজ্ঞানিক সতর্কতা
লোকবিশ্বাসের পাশাপাশি চিকিৎসাবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, খালি চোখে কখনোই সূর্যগ্রহণ দেখা উচিত নয়। এতে চোখ চিরতরে অন্ধ হয়ে যেতে পারে। গ্রহণ দেখার জন্য বিশেষ সৌর ফিল্টারযুক্ত চশমা, দূরবীন বা টেলিস্কোপ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।