ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

৪ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৫ জেলায় বন্যার শঙ্কা

রূপালী ডেস্ক
প্রকাশিত: এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০১:০১ পিএম
নেত্রকোনায় বিভিন্ন নদ-নদীতে পানি বাড়ছে। ছবি : সংগৃহীত

দেশে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাঁচ জেলায় বন্যা হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ জেলার মধ্যে ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনায় বন্যা শুরু হয়ে গেছে। বাকি তিন জেলায়ও বন্যা দেখা দিতে পারে, কারণ এসব জেলার নদ-নদীর পানি বাড়ছে। বর্তমান বৃষ্টিপাত আরও অন্তত পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া বুধবার সকালে বলেন, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনা জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর গত মঙ্গলবার পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়।

মঙ্গলবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। রাজধানীতে বুধবার সকাল থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে—১৬১ মিলিমিটার। এ ছাড়া ভোলায় ১৫১ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এ বৃষ্টি যে কোনো এলাকায় একটানা হবে না; থেমে থেমে বিভিন্ন এলাকায় হতে পারে। বৃষ্টি আগামী ৪ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

দেশের চারটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এসব নদী হলো ভুগাই কংস, মনু, সোমেশ্বরী ও মগরা। এর মধ্যে মনু ছাড়া বাকি তিনটি নদী নেত্রকোনা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

এ ছাড়া সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও এক থেকে দেড় মিটারের বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন পার্থ প্রতীম বড়ুয়া। তিনি বলেন, এসব নদী আকারে ছোট হওয়ায় ভারী বৃষ্টিতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পায়।

বৃষ্টি কমে গেলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলেও জানান তিনি।