ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা-মৃত্যুদণ্ড বন্ধ হয়েছে : দাবি ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : আলজাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা আমলে নিয়ে ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরিকল্পনা বন্ধ করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি যে, ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা বন্ধ হয়েছে এবং আটক কিংবা গ্রেপ্তার কারো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনাও স্থগিত রেখেছে ইরান। আমরা নির্ভরযোগ্য কর্তৃপক্ষ থেকে এ তথ্যের নিশ্চয়তা পেয়েছি।’

এর আগের দিন মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় ইরানের আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। জনতাকে ইরানের জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দখল করার নির্দেশনা দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ইরানে বিক্ষোভকারীদের দমন করতে নির্বিচারে গুলি চালানো হচ্ছে। এসব নির্বোধ হত্যা যতদিন না বন্ধ হয়, ততদিন পর্যন্ত ইরানের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে আমি বৈঠক করব না। (ইরানের বিক্ষোভকারীদের জন্য) সহযোগিতা আসছে। ইরানকে আবার মহান করে তুলুন (মিগা-মেইক ইরান গ্রেট এগেইন)।’

পরে একই দিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে বিক্ষোভের শুরু থেকে এ পর্যন্ত কতজন নিহত হয়েছেন—সে সম্পর্কিত নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য এখনো পায়নি মার্কিন প্রশাসন। তবে নিহতদের সংখ্যা যে অনেক উচ্চ—এ ব্যাপারে তিনি এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকারের কর্মকর্তারা ওয়াকিবহাল।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত। এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভ দমনে ইতোমধ্যে ইন্টারনেট-মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করেছে ইরান, সেই সঙ্গে দেশজুড়ে মোতায়েন পুলিশ-নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন করেছে সেনাবাহিনী। জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘাতে ইতোমধ্যে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সেইসঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।

গতকাল বুধবার ইরানের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, গ্রেপ্তার বিক্ষোভকারীদের বিচার ও ফাঁসি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর করা হবে। তারা এই তথ্য নিশ্চিত করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিক্ষোভকারীদের হত্যা ও মৃত্যুদণ্ড বন্ধ করা হয়েছে বলে ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প।