দীর্ঘ উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হলেও শেষ মুহূর্তে নতুন শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। আঞ্চলিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, তুরস্কের পরিবর্তে ওমানে বৈঠক করার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে তারা আলোচনার বিষয়বস্তু কেবল পারমাণবিক ইস্যুতে সীমাবদ্ধ রাখার দাবি জানিয়েছে।
আগামী শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এতে কাতার, সৌদি আরব ও মিশরের প্রতিনিধিদেরও উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা ছিল।
কিন্তু মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) নতুন এক প্রস্তাবে ইরান জানায়, তারা বহুপক্ষীয় আলোচনার পরিবর্তে ওমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে আগ্রহী।
ইরানি কূটনীতিকদের দাবি, এই আলোচনা হতে হবে ‘শুধু পারমাণবিক ফাইল’ নিয়ে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন শুরু থেকেই ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির প্রক্সিদের (সশস্ত্র গোষ্ঠী) তৎপরতাকেও আলোচনার এজেন্ডায় রাখার চাপ দিয়ে আসছে।
কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই মঙ্গলবার আরব সাগরে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর দিকে ‘আক্রমণাত্মকভাবে’ ধেয়ে আসা একটি ইরানি ড্রোনকে তারা গুলি করে ভূপাতিত করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ড্রোনটি বারবার সতর্কতা উপেক্ষা করে রণতরীটির খুব কাছে চলে আসায় আত্মরক্ষার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইরানের সাথে এই আলোচনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার এক কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি। যদি একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়, তবে সেটি হবে চমৎকার। আর যদি না হয়, তবে সম্ভবত খুব খারাপ কিছু ঘটতে চলেছে।
তবে বৈঠকের নির্দিষ্ট স্থান বা সময় নিয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি। এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন, স্থান নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এই সপ্তাহের শেষেই আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা এখনো রয়েছে।


