জাপানে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগাম সাধারণ নির্বাচন। দুই বছরের মধ্যে এটি দেশটির দ্বিতীয় জাতীয় নির্বাচন। গত বছরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) কাঙ্ক্ষিত ফল করতে না পারলেও এবার দেশটির প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করছে দলটি।
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার চার মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই এই আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন সানায়ে তাকাইচি। বিশ্লেষকদের মতে, গত বছর তার পূর্বসূরির একই ধরনের সিদ্ধান্ত এলডিপির জন্য বড় পরাজয় ডেকে আনার পর তাকাইচি এখন ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশের ঘরে থাকা জনপ্রিয়তাকে রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে কাজে লাগাতে চাইছেন।
তার দৃশ্যমান নেতৃত্ব, ভাইরাল জনসম্মুখ উপস্থিতি এবং দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থান এলডিপির ঐতিহ্যগতভাবে সতর্ক অবস্থান ও স্থবির ভাবমূর্তি থেকে তাকে আলাদা করেছে। সামাজিক মাধ্যমে রক্ষণশীল নেটওয়ার্কগুলো তার প্রচারণার ইতিবাচক উপস্থাপনাকে আরও জোরালো করেছে।
দ্য এশিয়া গ্রুপের জাপান প্র্যাকটিসের বিশ্লেষক রিনতারো নিশিমুরা বলেন, ‘আগের নির্বাচনগুলোর সাথে এবারের নির্বাচনের পার্থক্য হলো, বেশিরভাগ গণমাধ্যম জরিপে তার জনপ্রিয়তা তার পূর্বসূরিদের তুলনায় অনেক বেশি।’ তিনি বলেন, প্রচলিত রাজনৈতিক ধারণা অনুযায়ী জনপ্রিয়তা যখন বেশি থাকে, তখনই নির্বাচন ডাকা হয়।
সোফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী কোইচি নাকানো বলেন, সাম্প্রতিক জরিপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে রাজনৈতিক তহবিল কেলেঙ্কারির পর হারানো সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা এলডিপি আবারও ফিরে পেতে পারে। তিনি বলেন, ‘দল ভালো করলে অনেক সাংসদ কৃতজ্ঞ থাকবে। তাদের কেলেঙ্কারিগুলো চাপা পড়ে যাবে এবং তারা আরও অনুগত হয়ে উঠবে।’
তবে আগাম নির্বাচনের সময় নির্ধারণ নিয়ে বিরোধী দলগুলো সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, এতে মূল্যস্ফীতি মোকাবিলার পদক্ষেপ ও বাজেট নিয়ে আলোচনা বিলম্বিত হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর জাপানে তীব্র শীত ও ভারী তুষারপাত ভোটার উপস্থিতি কমিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘরোয়া রাজনীতির বাইরে প্রতিরক্ষা ও চীন ইস্যুতে তাকাইচির কড়া অবস্থান ভোটারদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি করেছে। কেউ কেউ তাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য শক্তিশালী নেতা হিসেবে দেখলেও অন্যদের আশঙ্কা বেইজিংয়ের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়লে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি টানাপোড়েন দ্রুত জনসমর্থন কমিয়ে দিতে পারে।
অর্থনৈতিক চাপ এখনো ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও মজুরির স্থবিরতা, ইয়েনের দুর্বল অবস্থান এবং জীবনযাত্রার ব্যয় উচ্চই রয়েছে। সমালোচকদের মতে, শুল্কছাড় ও আর্থিক স্বস্তির বিষয়ে তাকাইচির প্রতিশ্রুতিগুলো স্পষ্ট নয়। তবে তার সমর্থকদের যুক্তি, অর্থনৈতিক বাস্তবতা আরও কঠিন হয়ে ওঠার আগেই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই এই আগাম নির্বাচন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন