× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম

সীমান্ত বিরোধ থেকেই ‘যুদ্ধে’ পাকিস্তান-আফগানিস্তান?

বিশ্ব ডেস্ক

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষের জেরে উভয় দেশ পাল্টাপাল্টি হামলা ও ব্যাপক হতাহতের দাবি করছে। পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পাকিস্তান জানায়, ‘অপারেশন গাজাব লিল হক’ নামে আফগানিস্তানের ভেতরে বড় পরিসরের সামরিক অভিযান শুরু করেছে তারা।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক্সে দেওয়া পোস্টে দাবি করেন, কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া প্রদেশে তালেবান সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান ও স্থল হামলা চালানো হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এতে ১৩৩ জন তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ২৭টি পোস্ট ধ্বংস ও ৯টি দখলের পাশাপাশি একাধিক কর্পস, ব্রিগেড ও ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর, গোলাবারুদ ডিপো এবং সামরিক যান ধ্বংসের কথাও জানায় ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ পরিস্থিতিকে ‘জটিল সীমা অতিক্রম’ উল্লেখ করে তালেবান সরকারের সঙ্গে ‘খোলা যুদ্ধ’ শুরুর ঘোষণা দেন। অপরদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি অভিযোগ করেন, আফগান বাহিনী বিনা উস্কানিতে হামলা চালিয়েছে এবং এর ‘গুরুতর পরিণতি’ হবে।

এদিকে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা বিশ্লেষণভিত্তিক সংস্থা ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স ইউরোপ দাবি করেছে, পাকিস্তানি অভিযানে আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিহত হয়েছেন।

সংস্থাটি জানায়, কাবুলে সদরদপ্তর লক্ষ্য করে বিমান হামলায় তিনি ও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত হন। তবে তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসন পাকিস্তানের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তাদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বরং তাদের পাল্টা হামলায় অন্তত ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি কাবুলের। ইসলামাবাদ এ সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।

সংঘর্ষের জেরে কাবুল ও কান্দাহারে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ পাকিস্তানি হামলার কথা স্বীকার করলেও বড় ধরনের হতাহতের কথা অস্বীকার করেছেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির–এর নেতৃত্বে বাহিনী পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ, বিশেষ করে ডুরান্ড লাইন ইস্যুকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যায়। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে জঙ্গিগোষ্ঠী পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে; যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে কাবুল।

পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শন ও কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন।

বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ‘অপারেশন গাজাব লিল হক’ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। তবে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মহলে উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

Link copied!