মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একাধিক মিতব্যয়ী পদক্ষেপ এবং সঞ্চয় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে পাকিস্তান সরকার।
সোমবার (৯ মার্চ) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দেশজুড়ে এই পদক্ষেপগুলোর কথা জানান। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো পাকিস্তানও বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহে সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক পর্যায়ে তীব্র সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইরান। এর ফলে বিশ্বের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো ক্রেতাদের কাছে জ্বালানি সরবরাহ করতে নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম অনুযায়ী, সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশে পেট্রল ও ডিজেলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
শেহবাজ শরিফ বলেন, পুরো অঞ্চল এখন সংঘাতের কবলে পড়েছে। এই সংকট নিরসনে পাকিস্তান সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। পশ্চিম সীমান্তে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এবং সন্ত্রাসবাদের হুমকিও রয়েছে, যা দেশের সশস্ত্র বাহিনী কার্যকরভাবে মোকাবিলা করছে। এই সময় চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেহবাজ শরিফ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর হামলা ও তাকে হত্যার নিন্দা জানান এবং উপসাগরীয় বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে পাল্টা হামলারও সমালোচনা করেন।
সঙ্কট মোকাবিলায় পাকিস্তান সরকার নেওয়া পদক্ষেপগুলো হলো:
জ্বালানি সাশ্রয়: আগামী দুই মাস সরকারি গাড়িতে জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো হবে। সরকারি দপ্তরের ৬০ শতাংশ গাড়ি ব্যবহার করা হবে না।
বেতন কাটছাঁট: ফেডারেল মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা আগামী দুই মাস কোনো বেতন পাবেন না। সংসদ সদস্যদের বেতন ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। ৩ লাখ রুপির বেশি মাসিক বেতনভোগী ২০তম গ্রেড ও তার ওপরের কর্মকর্তাদের দুই দিনের বেতন কাটা হবে।
ব্যয় সংকোচন: সব সরকারি দপ্তরের ব্যয় ২০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদেশ সফর: মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য জরুরি প্রয়োজনে ছাড়া সব ধরনের বিদেশ সফর নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভার্চুয়াল মিটিং ও টেলিকনফারেন্সকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।
অন্যান্য ব্যবস্থা: সরকারি নৈশভোজ ও ইফতার পার্টি নিষিদ্ধ, সরকারি ভেন্যু ছাড়া সেমিনার ও অনুষ্ঠান করা যাবে না। জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ জনবল বাসা থেকে কাজ করবে। সরকারি অফিস সপ্তাহে চার দিন খোলা থাকবে, তবে ব্যাংক এ সিদ্ধান্তের আওতামুক্ত থাকবে।
শিক্ষা খাত: চলতি সপ্তাহের শেষ থেকে স্কুলগুলো দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকবে এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ক্লাস শুরু হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ আশা প্রকাশ করেছেন যে এই মিতব্যয়ী পদক্ষেপগুলো দেশের অর্থনীতিতে চাপ কমাতে সহায়ক হবে এবং জনগণকেও সচেতনভাবে শক্তি ও সম্পদ ব্যবহার করতে উদ্বুদ্ধ করবে।



সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন