ইসরায়েল পার্লামেন্ট সোমবার ভোর রাতে নতুন বাজেট অনুমোদন করেছে। ৬২ জন সদস্য পক্ষে ভোট দিয়ে বাজেট পাস করেছেন এবং ৫৫ জন সদস্য বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এই বাজেটে ‘মধ্যপ্রাচ্য পুনর্গঠন’কে সহায়তা করার জন্য পর্যাপ্ত খরচ রাখা হয়েছে।
দেশের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ জানিয়েছেন, অনুমোদিত বাজেটে সামরিক খাতে উল্লেখযোগ্য বাড়তি বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
নেসেটের এক মুখপাত্রও জানিয়েছেন, একাধিক যুদ্ধে ইসরায়েলকে সক্রিয় রাখার কারণে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার আগাম নির্বাচন এড়াতে পারবে।
নতুন বাজেটের মোট পরিমাণ ৬৯৯ বিলিয়ন শেকেল। প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ হিসেবে ৩০ বিলিয়ন শেকেল (প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) যোগ করা হয়েছে, ফলে সামরিক খাতের বাজেট বেড়ে ১৪২ বিলিয়ন শেকেল হয়েছে।
২০২৬ অর্থবছরের জন্য প্রতিরক্ষা খাতে রেকর্ড ১৪৩ বিলিয়ন শেকেল (৪৫.৮ বিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচ এই বাজেটকে ‘যুদ্ধকালীন বাজেট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, এটি ইসরায়েলকে ভৌগোলিক ও কূটনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে এবং ‘মধ্যপ্রাচ্যকে পুনর্গঠন’ করতে সহায়তা করবে।
বাজেট পাস হওয়ায় ইসরায়েলের আর্থিক বাজারে অনিশ্চয়তা কমেছে। তবে প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দের কারণে বাজেট ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে এবং সুদের হার কমানোর সুযোগ সীমিত হতে পারে।
ইসরায়েল বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক সংকটপূর্ণ অঞ্চলে লড়াই চালাচ্ছে। গাজা, লেবানন ও ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে দেশের অর্থনীতিতে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হচ্ছে।
কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি বলেন, সর্বোচ্চ বরাদ্দের এই বাজেট ইসরায়েলের একাধিক যুদ্ধ চালানোর প্রস্তুতির প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর ইসরায়েলকে ৩.৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা দেয়, যা যুদ্ধকালে আরও বাড়ানো হয়।
বাজেট পাস না হলে ৯০ দিনের মধ্যে আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো। বর্তমানে জনমত জরিপ অনুযায়ী নেতানিয়াহুর সরকার হারের সম্ভাবনা বেশি। নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় অক্টোবরের শেষ অথবা সেপ্টেম্বর হতে পারে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন