× UCB Sticker Card
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মো. সায়েম ফারুকী

প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস: শান্তিরক্ষা কেমন কঠিন, কতটা নিরাপদ?

মো. সায়েম ফারুকী

প্রকাশিত: এপ্রিল ১, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

একসময় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের নীল হেলমেট নিরাপত্তা, নিরপেক্ষতা ও আশার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো। যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে তারা যুদ্ধ থামানো, বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি করার দায়িত্ব পালন করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৈশ্বিক সংঘাতের প্রকৃতি বদলে গেছে। এখন অনেক ক্ষেত্রেই শান্তিরক্ষীরা নিজেরাই সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম লেবানন, গাজা, সুদান, কঙ্গো, মালি ও দক্ষিণ সুদানের মতো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। যুদ্ধ ও সহিংসতার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গাজা উপত্যকায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-এর অন্তত ২৬৩ জন কর্মী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু ২০২৪ সালেই নিহত হন অন্তত ১১৬ জন।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, এটি কোনো একক সংঘাতে সংস্থাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ কর্মী প্রাণহানির ঘটনা। তবে নিহতদের বেশিরভাগই ছিলেন মানবিক সহায়তা ও ত্রাণকর্মী, সরাসরি শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্য নন।

লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিল একাধিকবার হামলা ও সংঘর্ষের মধ্যে পড়েছে। ২০২৪ সালে বিভিন্ন ঘটনায় অন্তত ৪০ জন শান্তিরক্ষী আহত হন। অক্টোবর ২০২৪-এ সীমান্ত এলাকায় ট্যাংক হামলায় কয়েকজন শান্তিরক্ষী আহত হন। যদিও ইউএনআইএফআইএলের তথ্যমতে, ২০২৩–২৪ সময়কালে কোনো শান্তিরক্ষীর মৃত্যু নিশ্চিত হয়নি, তবুও পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননে পৃথক কয়েকটি ঘটনায় তিনজন ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষীর মৃত্যু ঘটে, যার মধ্যে গোলাবর্ষণ ও বিস্ফোরণজনিত ঘটনা রয়েছে। এসব হামলার দায় নিয়ে পক্ষগুলোর মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন দাবি থাকলেও চূড়ান্ত তদন্ত এখনো সম্পন্ন হয়নি।

শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলার ঘটনায় ৬৩টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক যৌথ বিবৃতিতে নিন্দা জানিয়ে একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে। তারা শান্তিরক্ষীদের সুরক্ষা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এসব ঘটনার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ইউনিফিল ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় লেবানন–ইসরায়েল সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে। বর্তমানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার শান্তিরক্ষী ৪৭টি দেশের অংশগ্রহণে সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে চলমান সংঘাতের কারণে মিশনের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ মিশনটি সমাপ্ত করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক সংঘাত এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। আগে শান্তিরক্ষীরা মূলত পর্যবেক্ষক ও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতেন, কিন্তু এখন তারা সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রের মাঝখানে অবস্থান করছেন। ফলে নীল হেলমেটধারীরা আর কেবল নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক নন, বরং অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির অংশ হয়ে পড়েছেন।

ফলে বলতে গেলে সব মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের বাস্তবতায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা এখন বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। গাজা ও লেবাননের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো স্পষ্ট করছে—শান্তিরক্ষা মিশন পরিচালনা শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং কঠিন নিরাপত্তা ও কৌশলগত বাস্তবতার প্রশ্নও। নীল হেলমেট আজও শান্তির প্রতীক হলেও সেই প্রতীকই এখন সবচেয়ে অনিরাপদ পরিবেশে দায়িত্ব পালন করছে।

Link copied!