ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

নির্বাচনে ভরাডুবি, পদত্যাগের চাপে স্টারমার

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ৯, ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

ইংল্যান্ডের স্থানীয় কাউন্সিল নির্বাচন এবং স্কটল্যান্ড-ওয়েলসের পার্লামেন্ট ভোটে বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়ার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির অন্তত ২০ জনের বেশি এমপি তাকে সরে দাঁড়ানোর সময়সূচি ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে স্টারমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত পদত্যাগের কোনো পরিকল্পনা তার নেই। দলীয় মন্ত্রীরাও প্রকাশ্যে তার পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছেন।

জাতীয় নির্বাচনের এখনো প্রায় দুই বছর বাকি থাকলেও সাম্প্রতিক এই ফলকে লেবারের জন্য বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ওয়েলসের পার্লামেন্টে দলটির ঐতিহাসিক পরাজয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রায় ২৭ বছর পর সেখানে ক্ষমতা হারিয়েছে লেবার।

ওয়েলসের ৯৬ আসনের পার্লামেন্টে স্বাধীনতাপন্থি মধ্য-বাম দল প্লাইড কামরি সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে। তারা পেয়েছে ৪৩টি আসন। ডানপন্থি জনতুষ্টিবাদী দল রিফর্ম ইউকে ৩৪টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। লেবার পেয়েছে মাত্র ৯টি আসন, আর কনজারভেটিভদের ঝুলিতে গেছে ৭টি। এ ছাড়া লিবারেল ডেমোক্র্যাট ও গ্রিন পার্টি যথাক্রমে ২ ও ১টি আসন পেয়েছে।

অন্যদিকে স্কটল্যান্ডে টানা পঞ্চমবারের মতো সরকার গঠন করেছে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি)। যদিও আগের তুলনায় তাদের আসন কিছুটা কমে ৫৮-তে নেমেছে। সেখানে রিফর্ম ইউকে ১৭টি আসন পেয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্কটিশ গ্রিন ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের অবস্থানও আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে। বিপরীতে লেবার ও কনজারভেটিভ দুই বড় দলই আসন হারিয়েছে।

ইংল্যান্ডের স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও লেবারের অবস্থা ছিল হতাশাজনক। ঘোষিত ১৩১টি কাউন্সিলের ফলে দেখা গেছে, রিফর্ম ইউকে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে। দলটির কাউন্সিলর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৪৪-এ, যা আগের চেয়ে ১ হাজার ৪৪২ বেশি। অন্যদিকে লেবার হারিয়েছে ১ হাজার ৪০৬ কাউন্সিলর; বর্তমানে তাদের দখলে রয়েছে মাত্র ৯৯৭টি আসন।

কনজারভেটিভ পার্টিও বড় ধাক্কা খেয়েছে। তারা ৫৫৭ কাউন্সিলর হারিয়ে চতুর্থ অবস্থানে নেমে গেছে। লিবারেল ডেমোক্র্যাটরা তাদের ছাড়িয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। পাশাপাশি গ্রিন পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন।

লেবার পার্টির উপপ্রধান লুসি পাওয়েল জানিয়েছেন, নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার দায়িত্ব স্বীকার করেছেন। তবে তিনি পদত্যাগ করছেন না। পাওয়েলের ভাষ্য, ভোটারদের অসন্তোষের বার্তা দল গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং পরিস্থিতি বদলাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে নেতৃত্ব।

এদিকে লেবারের সাবেক উপপ্রধান হ্যারিয়েট হারম্যানও মনে করেন, এই মুহূর্তে স্টারমারের সরে দাঁড়ানো সমাধান নয়। তবে তিনি বলেছেন, গত দুই বছরে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে এবং এখন নেতৃত্বকে দ্রুত কার্যকর পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে।